26 C
Dhaka, BD
Home Blog Page 859

কোথায় মুখোমুখি হচ্ছেন কিম-ট্রাম্প?

5

কোথায় মুখোমুখি হচ্ছেন কিম-ট্রাম্প?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার প্রত্যাশিত বৈঠকের জন্য পাঁচটি স্থান বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে ঠিক কোন স্থানে তাদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে, সেব্যাপারে কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি। তবে বেশ কয়েকটি জায়গার নাম নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে; যেখানে বসতে পারেন প্রতিদ্বন্দ্বি এ দুই প্রেসিডেন্ট।

:: সম্ভাব্য কয়েকটি স্থান ::

– পানমুনজম –

দুই কোরিয়ার সীমান্তের অসামরিক এলাকা ও যুদ্ধবিরতি গ্রাম হিসেবে পরিচিত ‘পানমুনজমে’ আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসছেন কিম জং উন ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন। এই গ্রামে উভয় পক্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ এবং উচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ট্রাম্প-কিমের বৈঠকের স্থান হিসেবে পানমুনজমে বসার সম্ভাব্না নাকচ করে দিয়েছেন। তারা ১৯৭৬ সালে এই স্থানের একটি খুনের ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ওই বছর উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী মার্কিন দুই কর্মকর্তাকে পানমুনজমে বেদম মারপিট করে হত্যা করে।

পানমুনজমের অতীত ইতিহাসের কারণে ওয়াশিংটন এই স্থানের ব্যাপারে আগ্রহী নয়। এছাড়া এ গ্রামটি কোরীয় উপদ্বীপকে বিভাজনের স্মৃতিচিহ্ন।

– সিউল –

চলতি বছরে কিম জং উনের পরিবারের একজন সদস্য দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউল সফর করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিকে কিমের প্রতিনিধি হিসেবে সফরে গিয়েছিলেন তার বোন কিম ইয়ো জং। উত্তর কোরীয় নেতার বোনের এই সফর ঘিরে কোরীয় দ্বীপে কূটনীতির শীতল হাওয়া বইতে শুরু করে।

কিমের সিউলে যাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম, তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দক্ষিণে তার এই সফরে ঝুঁকি নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক হতে পারে। এটি হলে ট্রাম্পের চেয়ে মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারেন কিম। যা হোয়াইট হাউস এড়াতে চায়। এছাড়া এর ফলে আলোচনা ফলপ্রসূ নাও হতে পারে।

– বেইজিং –

গত ছয় মাসে চীনের রাজধানী বেইজিং সফর করেছেন ট্রাম্প এবং কিম। কিন্তু সেখানে এ ধরনের একটি সম্মেলন জটিলতা তৈরি করতে পারে – কোরীয় যুদ্ধের অংশীদার ছিল চীন; এবং যুদ্ধের সময় কিমের বাবা কিম ইল সুংকে পরাজিত হওয়া থেকে রক্ষা করে বেইজিংয়ের সামরিক বাহিনী। ১৯৫৩ সালে কোরীয় দ্বীপে যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, চীনও তাতে অংশ নেয়; বন্ধ হয়ে যায় যুদ্ধ।

দীর্ঘদিন ধরে পিয়ংইয়ংয়ের প্রধান কূটনৈতিক রক্ষাকর্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সহায়তার উৎস চীন। তবে সম্প্রতি এ দুই দেশের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। ২০১১ সালে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে গত মাসে বেইজিংয়ে যান কিম জং উন। বেইজিং সফরে গিয়ে তিনি চীনের নেতা শি জিনপিংকে শ্রদ্ধা জানান।


বেইজিংয়ে যদি ট্রাম্প-কিমের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় তাহলে প্রভাবের দিক থেকে আরো বেশি ফুলে-ফেঁপে উঠবেন শি জিনপিং। চীনকে উত্তর কোরিয়ার প্রধান মিত্র ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে মনে করা হয়। ওয়াশিংটন-পিয়ংইয়ং চুক্তিতে পৌঁছালে এই সফলতার ক্রেডিট দাবি করতে পারে বেইজিং।

তবে চীনা ভূখণ্ডে কূটনৈতিক কোনো অনুষ্ঠান বা বৈঠকে গণমাধ্যমের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বেইজিং কিম-ট্রাম্প বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

– উলান বাটোর –

কোরিয়ার নজরদারির আওতায় বাইরের একটি জনপ্রিয় স্থান মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলান বাটোর। উত্তর কোরিয়া থেকে ট্রেন অথবা আকাশপথে পৌঁছানো যায় শহরটিতে। পিয়ংইয়ং এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে দেশটির সুসম্পর্ক রয়েছে।

২০১৩ সালে উত্তর কোরিয়া সফর করেন মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট সাখিয়াজিন এলবেদোরজ। গত বছর পিয়ংইয়ংয়ের ওপর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা আরোপের পূর্ব পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার প্রায় এক হাজার ২০০ নাগরিক স্থলবেষ্টিত মঙ্গোলিয়ায় কর্মরত ছিলেন।

– সুইজারল্যান্ড –

বাবার মতো বিমানে চেপে বসার ভয় নেই কিম জং উনের। তবে দেশে ভেতরে বিমানে করে ভ্রমণ করতেন তার পূর্বসূরী কিম জং ইল। সেদিক বিবেচনায় ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জন্য সুইজারল্যান্ড গন্তব্য হতে পারে কিমের।


১৯৯০ সালে সুইজারল্যান্ডে পড়াশোনা করেছেন কিম জং উন। দেশটির ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অব বার্নিতে তার ভাই ও বোনের সঙ্গে শিক্ষাজীবনের একটি অংশ পার করেছেন। সুতরাং এ দেশটির সঙ্গে তার পরিচিতি অনেকদিনের। শতাব্দি কাল থেকে দেশটি নিরপেক্ষতা ধরে রেখেছে; একই সঙ্গে সেখানে উত্তর কোরিয়ার একটি দূতাবাসও আছে।

– সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম –

ট্রাম্প-কিমের বৈঠকের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে এশিয়ার আরেক দেশ সিঙ্গাপুর ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। ২০১৫ সালে দেশটিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট মা ইং জিও স্বাক্ষাৎ করেন। ১৯৪৯ সালে চীনের গৃহযুদ্ধের অবসান ও বিভক্তির পর প্রথমবারের মতো দুই দেশের এ দুই রাষ্ট্রনেতা বৈঠক করেন।

এদিকে, কমিউনিস্ট শাসিত ভিয়েতনামও বিবেচনায় রয়েছে। ১৯৭৫ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধ শেষের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিয়েতনামের অর্থনৈতিক প্রসার তুমুল বৃদ্ধি পেয়েছে।


– স্ক্যান্ডিনেভিয়া –

গত মাসে উত্তর কোরিয়া জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলের দেশ সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড সফর করেছেন। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী রি ইয়ং হো স্টকহোম এবং হেলসিঙ্কিতে মার্কিন বিশেষজ্ঞ ও উত্তরের প্রতিনিধি দল নিয়ে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন। গত বছর নরওয়েতেও একই ধরনের বৈঠক হয়েছে।

উত্তর কোরিয়ায় মার্কিন নাগিরকদের সুরক্ষার লক্ষ্যে পিয়ংইয়ং এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে সুইডেনের। দেশটিতে ১৯৭৫ সালে প্রথমবারের মতো পিয়ংইয়ংয়ের দূতাবাস চালু করা হয়।
সূত্র : এএফপি।

দুই সিটি নিয়ে জাপার ‘দর-কষাকষি’

3

দুই সিটি নিয়ে জাপার ‘দর-কষাকষি’

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা বললেও বিষয়টি এখন পরিষ্কার করতে চাইছে না। সব আসনে প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতির পাশাপাশি রাজনীতির মাঠে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে হাঁকডাক দিচ্ছে দলটি। এরই অংশ হিসেবে আসন্ন গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনকে রাজনৈতিক ‘দর-কষাকষি’ হিসেবে নিয়েছে জাপা।

‘আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৭০ আসন এবং ১০/১২টি মন্ত্রণালয় চেয়েছি। আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে শরিক হয়ে থাকতে চাই। আমাদের কথা মতো আসন আর মন্ত্রণালয় না দিলে এককভাবে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেব।’ গত শনিবার রংপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তার এ বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

এ প্রসঙ্গে জাপা মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, নির্বাচন কীভাবে হবে এটা বলা এখন কঠিন। তবে এখন অনেক কথাই হবে, চূড়ান্ত কথা হবে নির্বাচনের কিছু আগে। পরিস্থিতি এবং জনতার দাবি বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, এটা নির্বাচনী কৌশল। অনেক রকমের কথা হবে, এগুলো কৌশল।

এর আগে ৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। ওই বৈঠকে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। পরে খবর বের হয় জাতীয় পার্টি আসন্ন গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনে প্রার্থী দেবে না। এর আগে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি নির্বাচনেও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনি জাপা।

তবে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত রংপুর সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে বিপুল ভোটে জয় পায় জাপাপ্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া গাইবান্ধা-১ আসনের উপ-নির্বাচনে জাপাপ্রার্থী জয়ী হয়। একই দিন অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে পরাজিত হয় জাপা।

আসন্ন খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে শফিকুর রহমান মনোনয়নপত্র জমা দিলেও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জাপা সূত্রে জানা গেছে।

জাপা নেতাদের দাবি, গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হওয়ার মতো প্রার্থী জাপার নেই। সে ক্ষেত্রে জাপা কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জাপার এক সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অধিক আসন পেতে আসন্ন দুই সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন দিতে পারে জাপা। তবে আসন্ন সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হবে কি-না, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

জাপা নেতারা জানান, বিএনপি নির্বাচনে আসলে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে। বিএনপি নির্বাচনে না এলে আওয়ামী লীগ বাদে অন্যদের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে অংশ নেবে জাপা।
এ প্রসঙ্গে দলের কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, গাজীপুরে যারা প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন, তারা জয়ী হওয়ার মতো শক্তিশালী ছিলেন না। তবে খুলনায় আমরা প্রার্থী দেব।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, বিজয়ের পথে জাতীয় পার্টি, অগ্রযাত্রার পথে জাতীয় পার্টি। অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার আন্তরিক প্রচেষ্টায় জাতীয় পার্টি। যেই মুহূর্তে আমরা অনেক উত্থান দেখি সেই মুহূর্তে একটা প্রার্থী দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে চাই না। জনতার আস্থা রাখতে বিষয়গুলো চিন্তা-ভাবনা করে আমরা প্রার্থী দেই।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, জাপার ভালো প্রার্থীরা সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মেয়র নির্বাচন করতে গেলে অনেক অর্থ খরচ হবে। পরে সংসদ নির্বাচন করতে গেলে অর্থের সঙ্কট দেখা দিতে পারে, এ কারণে সিটি নির্বাচনে কম গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে সমর্থন জানানোর জন্য জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের নেতা ওবায়দুল কাদের ও জাহাঙ্গীর কবির নানক। ওই বছরের ২৩ জুন এরশাদের বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্ক ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গাজীপুরের জন্য জাপার সমর্থন চাওয়া হয়।

আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিত হবে গাজীপুর এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। ইতোমধ্যে ওই দুই সিটিতে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষে আগামী ২৪ এপ্রিল থেকে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন।

দুই সিটির নির্বাচনে মেয়র পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির প্রার্থীসহ একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তবু শীর্ষে ব্যাংক

9

তবু শীর্ষে ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক : শেয়ারের লেনদেন ধারাবাহিকভাবে কমলেও গত কয়েক মাসের মতো মার্চেও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে দেশের ব্যাংক খাত। শেয়ারবাজারের প্রাণ হিসেবে পরিচিত এ খাত টানা আট মাস লেনদেনের শীর্ষস্থানে রয়েছে।

প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খেলাপি ঋণ, পরিচালকদের অনৈতিক কার্যক্রমসহ ব্যাংক খাত সম্পর্কে বিভিন্ন নেতিবাচক তথ্য বেরিয়ে আসায় আর্থিক খাতের ওপর এক ধরনের আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, ব্যাংক খাত খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই। ফলে ব্যাংকের প্রতি আস্থা কমেছে।

বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমার কারণে ব্যাংক খাতের শেয়ার লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে মার্চ মাসের শেষ পর্যায়ে এসে সরকারের সিদ্ধান্তে ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণ (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও বা সিআরআর) সাড়ে ছয় শতাংশ থেকে এক শতাংশ কমিয়ে সাড়ে পাঁচ শতাংশ করা এবং সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে ব্যাংকের শেয়ার লেনদেনে। ফলে লেনদেনের শীর্ষস্থানটি ব্যাংকের দখলেই রয়েছে।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, মার্চ মাসে লেনদেনের শীর্ষস্থান ব্যাংক খাতের দখলে থাকলেও টাকার অংক এবং শতাংশের হিসাবে আগের মাসের তুলনায় কমেছে। মার্চ মাসজুড়ে ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২৪ কোটি টাকা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয় এক হাজর ২৪৩ কোটি টাকা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ১৯ শতাংশ।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের শেয়ারবাজারে ব্যাংক খাত সব সময় একটি বড় ভূমিকা রাখে। তবে ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে ধস এবং পরবর্তীতে হল-মার্কসহ ব্যাংক খাতের বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসে। এতে কিছুটা হলেও ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়। যার নেতিবাচক প্রভাব শেয়ারবাজারেও দেখা যায়।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ব্যাংক খাতের জন্য যে সুবিধা (সিআরআর কমানো এবং সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংককে দেয়া) দেয়া হয়েছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রয়োজনীয়। এতে ঋণের প্রবাহ বেড়ে অযোগ্যদের ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে খেলাপি ঋণ বেড়ে যেতে পারে। ব্যাংক খাতকে দেয়া এ সুবিধার সঙ্গে শেয়ারবাজারের কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ দেখা গেল ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ব্যাপক উত্থান হলো। বিনিয়োগকারীরা হুজুগে মাতার কারণে এমনটি হয়েছে।

ডিএসইর সাবেক সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ডিএসইর বাজার মূলধনের অর্ধেকই ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক খাতের। এর মধ্যে ব্যাংক খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি। যে কারণে ব্যাংক খাত ভালো থাকলে সার্বিক শেয়ারবাজারও ভালো থাকবে। সিআরআর কমানো এবং সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার ফলে আর্থিক বাজারে তারল্য বাড়বে। এতে আশা করা যায় আগামী নির্বাচন পর্যন্ত তারল্য সংকট থাকবে না।

এদিকে লেনদেনের শীর্ষস্থান ধরে রাখলেও গত সেপ্টেম্বরের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে ব্যাংক খাতের শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয় আট হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। পরের মাস অক্টোবরে তা কমে দাঁড়ায় ছয় হাজার ৪১৭ কোটি টাকায়। এ ধারা অব্যাহত থাকায় নভেম্বরে ছয় হাজার ৭৬ কোটি, ডিসেম্বরে দুই হাজার ১৩৬ কোটি, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে এক হাজার ৯০০ কোটি এবং ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার ২৪৩ কোটি টাকার লেনদেন হয়। আর মার্চে লেনদেন হয় এক হাজার ২৪ কোটি টাকা।

ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন এমন ধারাবাহিকভাবে কমায় সার্বিক বাজারেও লেনদেনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাপ পড়েছে। ডিএসইতে মার্চ মাসে শেষ ১৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে। মার্চে মোট লেনদেন হয়েছে ছয় হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে গত ১৫ মাসের মধ্যে এক মাসে ডিএসইতে এত কম লেনদেন হয়নি।

                                             ডিএসইর শেষ ১৫ মাসের লেনদেন চিত্র 

মাস

টাকা
জানুয়ারি- ২০১৭ ৩৪ হাজার ২৩২ কোটি টাকা
ফেব্রুয়ারি- ২০১৭ ১৯ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা
মার্চ- ২০১৭ ২১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা
এপ্রিল- ২০১৭ ১৫ হাজার ২২৩ কোটি টাকা
মে- ২০১৭ ১২ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা
জুন- ২০১৭ ১০ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা
জুলাই- ২০১৭ ২০ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা
আগস্ট- ২০১৭ ১৯ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা
সেপ্টেম্বর- ২০১৭ ১৯ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা
অক্টোবর- ২০১৭ ১৫ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা
নভেম্বর- ২০১৭ ১৮ হাজার ৪২১ কোটি টাকা
ডিসেম্বর- ২০১৭ ৯ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা
জানুয়ারি- ২০১৮ ১০ হাজার ৭২ কোটি টাকা
ফেব্রুয়ারি- ২০১৮ ৭ হাজার ৫২২ কোটি টাকা
মার্চ- ২০১৮ ৬ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা

 

 

ডিএসইর খাত ভিত্তিক তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মার্চ মাসে ডিএসইতে লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ওষুধ খাত। ফেব্রুয়ারি মাসেও এ খাতটি দ্বিতীয় স্থানে ছিল। মার্চজুড়ে ওষুধ খাতের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯৯৪ কোটি টাকা, যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। আগের মাসে এ খাতের শেয়ার লেনদেন হয় এক হাজার ১৪৪ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ।

তৃতীয় স্থানে থাকা প্রকৌশল খাত ফেব্রুয়ারিতেও তৃতীয় স্থানে ছিল। মার্চে এ খাতের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৯২৪ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে এ খাতের শেয়ার লেনদেন হয় এক হাজার ৩০ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৩ দশমিক ৪২ শতাংশ।

অপরিবর্তিত রয়েছে চতুর্থ স্থানটিও। ফেব্রুয়ারির মতো মার্চেও লেনদেনের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত। মার্চে এ খাতের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭৪৯ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ। আগের মাসে এ খাতের শেয়ার লেনদেন হয় ৮৬৪ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ১১ দশমিক ২৬ শতাংশ।

বাকি খাতগুলোর মধ্যে মার্চে চার শতাংশের ওপরে এককভাবে অবদান আছে চারটি এবং তিন শতাংশের নিচে আছে ১০টি খাতের। মোট লেনদেনের চার শতাংশের ওপরে থাকা খাতগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের আট দশমিক ৫৬ শতাংশ, খাদ্যের পাঁচ দশমিক ৮১ শতাংশ, আর্থিক খাতের চার দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং বিবিধ খাতের চার দশমিক ১৪ শতাংশ অবদান রয়েছে।

এছাড়া টেলিকমিউনিকেশন খাতে তিন দশমিক ৯৮ শতাংশ, সিরামিকের তিন দশমিক ৩৪ শতাংশ, বীমার দুই দশমিক ৮২ শতাংশ, আইটির দুই দশমিক ৬৭ শতাংশ, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দুই দশমিক ৬১ শতাংশ, চামড়ার দুই দশমিক ১০ শতাংশ, ভ্রমণের এক দশমিক ৫৭ শতাংশ, সিমেন্টের এক দশমিক ৫৭ শতাংশ, সেবা ও আবাসনের দশমিক ৮৩ শতাংশ, পাটের দশমিক ৩২ শতাংশ, কাগজ ও মুদ্রণের দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ এবং বন্ডের দশমিক শূন্য ১ শতাংশ অবদান রয়েছে।

সিরিয়ায় আবারো হামলার জন্য প্রস্তুত ট্রাম্প

1961

সিরিয়া সরকারকে সতর্ক করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সিরিয়া নতুন করে রাসায়নিক হামলা চালালে দেশটিতে আবারো আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শুক্রবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের বিভিন্ন ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের হামলার পর এই সতর্কতা জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

গেল সপ্তাহে সিরিয়ার পূর্ব ঘৌতা অঞ্চলের দৌমা শহরে রাসায়নিক হামলার অভিযোগ আনে দেশটির স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধারকারী দল হোয়াইট হেলমেটসসহ আরও করেকটি সংস্থা। ওই হামলায় কমপক্ষে ৭০ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি তোলে তারা। পরে শহরটিতে রাসায়নিক হামলার প্রমাণ মিলেছে বলে জানায় হোয়াইট হাউসও। তবে সিরিয়া সরকারের অন্যতম মিত্র রাশিয়া বরাবরই রাসায়নিক হামলার কথা অস্বীকার করে এসেছে। সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, শুক্রবার মার্কিন জোটের হামলায় এখন পর্যন্ত শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র সিরীয় ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোঁড়ার দাবি করছে মার্কিন সেনাবাহনী।

অপর দিকে রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে,রাশিয়ার সেনাবাহিনী পশ্চিমাদের ছোড়া ১০৩টি ক্ষেপণাস্ত্রের ৭১টিই ভূপাতিত করেছে। এদিকে গতকাল শনিবার সিরিয়ায় মার্কিনি হামলার বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকে রাশিয়া। সেখানে মার্কিন নেতৃত্বে ওই হামলার নিন্দা প্রস্তাব আনা হয়। তবে রাশিয়ার আনা ঐ প্রস্তাব গৃহীত হয়নি।

ম্যানচেস্টার সিটির আত্মবিশ্বাসী জয়

1995

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গত ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে জিততে পারলেই ট্রফি নিজেদের করে নিতে পারত ম্যানচেস্টার সিটি। সেটা হয়নি। নগর প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে ২-৩ গোলের ব্যবধানে হারে সিটিজেনরা। তবে শনিবার রাতে ম্যানচেস্টার সিটিকে বেশ আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। জয়টাও হয়েছে মনের মতো। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে টটেনহামকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি শিরোপার একেবারে কাছেই পৌঁছে গেছে বলা চলে।

পুরো ম্যাচেই প্রভাব বিস্তার করে খেলে ম্যানচেস্টার সিটি। বল দখলের লড়াইয়েও এগিয়ে ছিল সিটি। গোলমুখে শট নিয়েছিল ১৭টি। লক্ষ্যে ছিল ৬টি শট। অন্যদিকে টটেনহামের খেলোয়াড়েরা গোলমুখে শট নিয়েছিলেন মাত্র ৮টি। তিনটি শট লক্ষ্যে ছিল।

সিটির হয়ে প্রথম গোল করেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। ছবি: এএফপি
সিটির হয়ে প্রথম গোল করেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। ছবি: এএফপি
ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুই গোল করে সিটি। ২০তম মিনিটে প্রথম সুযোগ হাতছাড়া করেন সিটির স্টার্লিং-গুন্ডোগান। তবে অপেক্ষা খুব বেশি দীর্ঘ হয়নি। ২২তম মিনিটে ভিনসেন্ট কোম্পানির দুর্দান্ত পাস থেকে সিটির হয়ে প্রথম গোল করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা গ্যাব্রিয়েল জেসুস। দ্বিতীয় গোলের জন্যও খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি সিটিজেনদের। ২৫তম মিনিটেই ইকাই গুন্ডোগান পেনাল্টি থেকে গোল করলে গার্দিওলার শিষ্যরা ২-০ গোলে এগিয়ে যান। প্রিমিয়ার লিগে ৫৯ ম্যাচে প্রথমবারের মতো পেনাল্টি থেকে গোল পেয়েছে সিটি। ২০১৬ সালে নভেম্বরে ওয়েস্ট হামের বিপক্ষে শেষবার পেনাল্টি থেকে গোল পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ৩৩তম মিনিটে সিলভার অমন শট টটেনহামের গোলরক্ষক দুর্দান্তভাবে আটকে না দিলে স্কোরলাইন আরও বাড়তে পারত। এরপর গোল ব্যবধান কমাতে মরিয়া টটেনহাম একের পর এক আক্রমণ করেও ব্যর্থ হয়। যদিও প্রথমার্ধেই গোলের দেখা পায় টটেনহাম। ৪২তম মিনিটে সমন্বিত আক্রমণে গোল ব্যবধান কমায় টটেনহামের ক্রিশ্চিয়ান এরিকসন (১-২)। টটেনহামের হয়ে শেষ চার ম্যাচের সব কটিতেই গোল করেন এরিকসন।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই বেশ কিছু ভালো সুযোগ পায়। কিন্তু টটেনহামকে বারবার বেকায়দায় ফেলছিল সিটির আক্রমণভাগ। ৬৩তম মিনিটে জেসুসের ভালো সুযোগ নষ্ট করেন টটেনহামের গোলরক্ষক। ৬৫তম মিনিটে আবারও সুযোগ পায় সিটি। এবার সেটা মিস করেন স্টার্লিং-সিলভারা। ৬৯তম মিনিটে পরপর দুটি সুযোগ হাতছাড়া করে টটেনহাম। এরপর ৭১তম মিনিটে পাল্টা-আক্রমণে উঠে আসে সিটি। সহজ সুযোগ নষ্ট করে নিজের দ্বিতীয় গোল করতে ব্যর্থ হন জেসুস। তবে পরের মিনিটেই রাহিম স্টার্লিংয়ের গোলে (৩-১) জয় নিশ্চিত করে ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচের শেষ দিকে এসে দু-একটা ভালো সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি টটেনহাম।

বার্সার রেকর্ড, মেসির সামনে মাইলফলক

3030

ভ্যালেন্সিয়ার জালে গোল পাননি লিওনেল মেসি। তবে কাল রাতে বার্সেলোনার ২-১ গোলের জয়ে আর্জেন্টাইন তারকা জায়গা করে নিয়েছেন লা লিগায় শীর্ষ পাঁচ ম্যাচজয়ীদের কাতারে। তাঁর দল বার্সা অবশ্য দারুণ এক রেকর্ড গড়েছে। লিগে টানা ৩৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড এখন বার্সার। এর মধ্যে এবারের লিগে ৩২ ম্যাচে বার্সা এখনো হারের মুখ দেখেনি। অর্থাৎ, লা লিগার ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ এখন বার্সার সামনে।
কাতালান ক্লাবটি সে সুযোগ নিতে পারবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। আপাতত ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে রিয়াল সোসিয়েদাদের টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার কীর্তি পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড গড়ল আর্নেস্তো ভালভার্দের দল। এদিকে বার্সার কাল রাতের জয় দিয়ে মেসি ছুঁয়ে ফেলেছেন মানোলো সানচিসকে। ভাবছেন, এই সানচিসটা আবার কে?
আশির দশকে রিয়ালের বয়সভিত্তিক ফুটবল খামার ‘লা ফ্যাব্রিকা’ থেকে উঠে আসা পাঁচ খেলোয়াড় শাসন করেছিলেন স্প্যানিশ ফুটবল। স্পেনেরই ক্রীড়া সাংবাদিক হুলিও সিজার ইগলেসিয়াস এই পাঁচ খেলোয়াড়কে একসঙ্গে অলংকৃত করেছিলেন ‘লা কুইন্তা দেল বুইত্রে’ তকমায়। বাংলায় ‘শকুনের দল’—এমিলিও বুত্রাগুয়েনো, রাফায়েল মার্টিন, মিকেল ও মিগুয়েল পারদেজার সঙ্গে মানোলো সানচিস ছিলেন সেই দলের সদস্য। রিয়ালের সাবেক এই ডিফেন্ডারের ৩১২ লিগ ম্যাচ জয়কে কাল ছুঁলেন মেসি।
লা লিগায় সর্বোচ্চসংখ্যক ম্যাচ জয়ে মেসি এখন যুগ্মভাবে পাঁচে। তবে সানচিসের ৩১২ জয় তুলে নিতে যেখানে ৫২৩ ম্যাচ খেলতে হয়েছে মেসির সেখানে লাগল ৪১৩ ম্যাচ। লিগে সর্বোচ্চ ম্যাচ জয়ে মেসির সামনে এখন চার কিংবদন্তি—জাভি হার্নান্দেজ (৫০৫ ম্যাচে ৩২২ জয়), রাউল গঞ্জালেস (৫৫০ ম্যাচে ৩২৭ জয়), আন্দোনি জুবিজারেতা (৬২২ ম্যাচে ৩৩৩ জয়) ও ইকার ক্যাসিয়াস (৫১০ ম্যাচে ৩৩৪ জয়)।
লেগানেসের বিপক্ষে সর্বশেষ লিগ ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন মেসি। এতে বার্সার জার্সিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাঁর গোলসংখ্যা হলো ৬৩১ ম্যাচে ৫৪৬। এক ক্লাবের হয়ে ৫০০ গোলের মাইলফলক টপকে যাওয়া আট খেলোয়াড়ের তালিকায় আগেই জায়গা করে নিয়েছিলেন মেসি। লেগানেসের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক দিয়ে এ পথে বার্সা তারকা টপকে গেছেন স্পোর্টিং সিপি কিংবদন্তি ফার্নান্দো পেইরোতেওয়ের ৫৪৪ গোলকে।
এক ক্লাবের হয়ে ৫০০ গোল টপকে যাওয়াদের অভিজাত ক্লাবে মেসির সামনে এখন শুধু গার্ড মুলার ও পেলে। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৫৬৬ গোল করেছিলেন ‘ডার বম্বার’ খ্যাত মুলার। সান্তোসের হয়ে ৬৪৩ গোল নিয়ে শীর্ষে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে।

সাকিবের কাছেই কলকাতার পরাজয়

0

ইডেন গার্ডেনে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ৫ উইকেটের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে সাকিব আল হাসানের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই উজ্জ্বল দেখা মিলেছে। তবে বোলিংয়ে একটু বেশিই উজ্জ্বল ছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ব্যাট হাতেও দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তিনি। কলকাতাকে এবারই প্রথম ঘরের মাঠে পরাজিত করেছে হায়দরাবাদ। আর সানরাইজার্স সে জয় পেল কলকাতারই সাবেক খেলোয়াড় সাকিবের হাত ধরে। ম্যাচে বল হাতে ২১ রান খরচায় ২ উইকেটের সঙ্গে দুটি ক্যাচও নিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি ব্যাট হাতেও দুই চার আর এক ছক্কায় সাকিবের সংগ্রহ ২১ বলে ২৭ রান।

ছোট লক্ষ্য হলেও মাত্র ৫৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিলেন অতিথিরা। অধিনায়ক উইলিয়ামসনের সঙ্গে এরপর চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৫৯ রান তুলে সাকিব ম্যাচে ফেরান হায়দরাবাদকে। মাঝে অ্যান্ড্রু রাসেলের করা ম্যাচের ১২তম ওভারে এক চার আর দুই ছয়ে ১৫ রান নিয়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার।

দারুণ ছন্দে থাকা বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ফিরেছেন পীযুষ চাওলার বলে বোল্ড হয়ে। সাকিব আউট হওয়ার একটু পরেই উইলিয়ামসন তুলে নেন অর্ধশতক। তবে ৪৪ বল খেলে ঠিক ৫০ রানেই ফিরতে হয়েছে কিউই অধিনায়ককে।

তাতে অবশ্য জয় পেতে খুব একটা সমস্যা হয়নি সাকিবের দলের। ইউসুফ পাঠান আর দীপক হুদার ব্যাটে এক ওভার হাতে রেখেই হায়দরাবাদ ম্যাচ জিতে নিয়েছে ৫ উইকেটে। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন বিলি স্ট্যানলেক। এ নিয়ে মাঠে নামা তিন ম্যাচের তিনটিই জিতে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের শীর্ষস্থান ধরে রাখল হায়দরাবাদ।

আবার হারল মোস্তাফিজের দল

1112

আবার হেরেছে মোস্তাফিজের দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। জেসন রয়ের ব্যাটিং তাণ্ডবে শেষ বলে মুম্বাইকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস। শনিবার ওয়াংখেড়েতে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেটে ১৯৪ রানের বড় স্কোর গড়ে স্বাগতিক মুম্বাই। ইনিংস সেরা ৫৩ রান করেন সুরাইয়া কুমার ইয়াদভ, আরেক ওপেনার এভিন লুইসের ব্যাট থেকে আসে ৪৮। ওয়ান ডাউনে নামা ইশান কিশান ৪৪ রান করলেও, অফফর্মে থাকা রোহিত শর্মা ১৮’র বেশি করতে পারেননি।

বড়ো সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই তাণ্ডব চালান দিল্লির ইংলিশ ওপেনার জেসন রয়। দলীয় ৫০ রানে অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরকে তুলে নেন কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ। দলীয় ১১৯ রানে রিশব পান্টকে তুলে নেন হারদিক পান্ডিয়া। ছোট্ট বিরতিতে সাজঘরে ফেরেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েলও। তবে জেসন রয় অপরাজিত ৯১ রানের ইনিংস খেলে চলতি আসরে প্রথম জয় এনে দেন দিল্লিকে।

মিয়ানমারে ফিরল প্রথম রোহিঙ্গা পরিবার

341

জাতিসংঘকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশ থেকে ৫ সদস্যের এক রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করছে মিয়ানমার। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, রাখাইন রাজ্য এখন পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত নয়।

তা সত্ত্বেও শনিবার ৫ সদস্যের ওই রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নেয় মিয়ানমার।

বৈশাখী উৎস‌বে বেরসিক বৃ‌ষ্টির হানা

0

আবহমান বাংলার সংস্কৃ‌তির সবচে বড় মাইলফলক প‌হেলা বৈশাখ নগরবাসী‌কে প্রাণে প্রাণ মেলাবার সুযোগ করে দেয়। আর সেই সু‌যো‌গে শ‌নিবার (১৪ এ‌প্রিল) বি‌কে‌লে রাজধানীর চ‌ন্দ্রিমা উদ্যান এবং মা‌নিক মিয়া এ‌ভি‌নিউ ছিল উৎসবমুখর। ত‌বে বি‌কে‌লে বৈশা‌খের প্রথম বেরসিক বৃ‌ষ্টি‌তে সেই উৎস‌বে কিছুটা ভাটা প‌ড়েছে। এক কথায় যাকে বলে ‘হরিষে বিষাদ’।

উৎসবমু‌খর মুখগু‌লো মুহূর্তে গোমড়া হ‌য়ে যায়। অ‌নে‌কে ছো‌টোছু‌টি ক‌রে গা‌ছের নিচ কেউবা দৌ‌ড়ে গি‌য়ে গাড়ি‌তে উঠ‌ছে। বৈশা‌খের বি‌কে‌লে প্রিয়জন‌কে নি‌য়ে স‌বেমাত্র মধুর আলাপনে সময় কাটা‌তে শুরু ক‌রে‌ছে এমন সময় বেরসিক বৃ‌ষ্টির হানা। বলা যায় বড়ই আনরোমান্টিক বৃষ্টি!

প‌হেলা বৈশা‌খে ঝড়-বৃ‌ষ্টিও যেন বাঙালি সংস্কৃ‌তির অংশ, সেটার জানান দেয় বি‌কে‌লের বৃ‌ষ্টি। মা‌নিক মিয়া এভি‌নিউতে এম‌নি‌তেই ছু‌টির দিনে মানু‌ষের ভিড় জ‌মে ও‌ঠে। তার উপর য‌দি বৈশা‌খের মতো বাঙা‌লি উৎস‌বের দিন হয় তাহ‌লে তো কথাই নেই।

বাঙা‌লির ঐ‌তিহ্যবাহী পোশাক শা‌ড়ি আর পাঞ্জা‌বি‌তে পু‌রো এলাকা যেন র‌ঙিন হ‌য়ে উ‌ঠে‌ছিল। নারীর পরণে বাহা‌রি বৈশাখী শা‌ড়ি আর মাথায় ফু‌লসাজ, পুরুষদেরও বৈশাখী সাজের কমতি নেই। নানা রঙের পাঞ্জা‌বির স‌ঙ্গে মি‌লি‌য়ে পাজামা এবং স্লিপার।

হঠাৎ বৃ‌ষ্টি‌তে উৎসবের সব আনন্দ নিমেষে বিষাদে প‌রিণত হয়। তারপ‌রেও অ‌পেক্ষায় য‌দি বৃ‌ষ্টি স‌রে গি‌য়ে আকাশ প‌রিষ্কার হয়, তাহ‌লে আবারও সেই উৎসব চল‌বে। আর এই উৎসব শেষ হ‌বে রাত অব‌ধি।

Dhaka, BD
haze
26 ° C
26 °
26 °
57 %
0kmh
6 %
রবি
26 °
সোম
28 °
মঙ্গল
29 °
বুধ
30 °
বৃহঃ
30 °

সর্বাধিক পঠিত