জেলা প্রতিনিধি, মাদারীপুর : মাদারীপুরের শিবচরে সালিশ বৈঠকে ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ হাওলাদারকে ডাবের পানির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এ সময় ডাব নিয়ে আসা ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।
টাকার বিনিময়ে ডাবে ছিদ্র করে বিষ মিশিয়ে চেয়ারম্যানকে হত্যার পরিকল্পনা কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে আটক ব্যক্তি। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, শিবচরের শিরুয়াইল ইউনিয়নের চার বারের চেয়ারম্যান মুরাদ হাওলাদার শনিবার বিকেলে উৎরাইল এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের একটি সালিশ-মিমাংসা করেন। এ সময় তার পূর্ব পরিচিত একই ইউনিয়নের পশ্চিম চর কাকইর গ্রামের মাঝি ওবায়দুল শিকদার (৩৪) দুটি ডাব এনে চেয়ারম্যানকে খাওয়ার অনুরোধ করে। তার অনুরোধে দুটি ডাব কাটা হলে একটি পানি শূন্য পাওয়া যায়। অপর ডাবের পানি গ্লাসে ঢেলে চেয়ারম্যানকে দেয়া হয়। চেয়ারম্যান ডাবের পানি মুখে নিলে তীব্র দুর্গন্ধ ও অস্বস্তি বোধ করে।
পানিতে বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি অনুমান করে তাৎক্ষণিক মুখ থেকে তা ফেলে দেয়। তখন ওবায়দুল পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা আটক করে। পরে নিলখী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শাহারুলসহ একটি দল ঘটনাস্থল থেকে ওবায়দুলকে আটক করে শিবচর থানায় নিয়ে আসে।
আটক ওবায়দুল জানায়- একই ইউনিয়নের আ. হাই মাস্টারের ছেলে নূর আলম চেয়াম্যানকে খাওয়ানোর জন্য তাকে ডাব দুটি দিয়েছে। চেয়ারম্যানকে মেরে ফেলার জন্য কিছুদিন আগে নূর আলমসহ আরও অপরিচিত দুইজন তাকে দুই লাখ টাকা দিতে চেয়েছে। আটক ওবায়দুল পশ্চিম চর কাকইর গ্রামের মৃত কাদির শিকদারের ছেলে। এ ব্যাপারে রোববার বিকেলে শিবচর থানায় মামলা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর কাজী বলেন, চেয়ারম্যানকে হত্যার উদ্দেশ্যেই ওবায়দুল ডাবটি খাওয়ায়। এটি বড় চক্রান্ত। এর আগেও চেয়ারম্যানের ওপর কয়েক দফা হামলা হয়েছিল।
আটক ওবায়দুল বলেন, আমি মাঝি। ট্রলার বিক্রির পর বেকার হয়ে পড়লে নূর আলম চেয়্যারম্যানকে হত্যা করলে দুই লাখ টাকা দিতে চেয়েছিল। শনিবার তিনি আমাকে দুটি ডাব দিয়ে চেয়ারম্যানকে খাওয়াতে বলে।
শিরুয়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মুরাদ হাওলাদার বলেন, আটক ওবায়দুলকে বিশ্বাস করতাম। তার দেয়া ডাবের পানি পান করতে মুখে নিলে তীব্র দুর্গন্ধ ও মুখ আটকে আসলে বমি করি। ওবায়দুলের কাছে ডাব কোথা থেকে আনা হয়েছে জানতে চাইলে প্রথমে নিজ বাড়ির কথা বলে। পরে আমাকে হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করে। নিশ্চয়ই এর পেছনে বড় চক্রান্ত আছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচার চাই।
নিলখী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শাহারুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার জন্য ডাবের খোসা সংরক্ষণ করা হয়েছে। ওবায়দুল স্বীকারোক্তি দিয়েছে।
শিবচর থানার ওসি জাকির হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে। তদন্ত করে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে।





