রাহগির আল মাহি এরশাদ ওরফে শাদ এরশাদ (ছবি : সংগৃহীত)
নিজস্ব প্রতিবেদক : রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন পেলে বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রয়াত জাপার চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পুত্র রাহগির আল মাহি এরশাদ ওরফে শাদ এরশাদ।
অন্য দিকে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন জোটবদ্ধ হয়ে করেছে, তাই রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনও জোটগতভাবেই হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা।
শনিবার (৩১ আগস্ট) এরশাদের ‘পল্লী নিবাসে’ আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও কুলখানির অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন শাদ এরশাদ ও মহাসচিব রাঙ্গা।
জাপা মহাসচিব বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ জোটবদ্ধ থেকে নির্বাচন করেছে। আশা করি, রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনও জোটগতভাবেই হবে। এই আসন থেকে উনি (এরশাদ) সব সময় বেশি ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।’
আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এই আসনটি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের আসন। তাই আওয়ামী লীগের কাছে আমরা আশা করি, এখানে প্রার্থী না দিয়ে আওয়ামী লীগ আমাদের সহায়তা করবে। এটা জনগণের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’
রাঙ্গা আরও বলেন, উপ-নির্বাচনে প্রার্থী বাছাই করার বিষয়টি আমরা এত দিন স্থগিত রেখেছিলাম। প্রার্থী বাছাই করার জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। সেই কমিটিতে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং আমিসহ প্রেসিডিয়াম সদস্যরা আছেন। কমিটির সদস্যেরা প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন, দলের জন্য ত্যাগ-তিতিক্ষা ইত্যাদি বিষয় যাচাই-বাছাই করে একজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবেন। এ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না বলে আমি মনে করি।
ডেঙ্গু সমস্যা বা কৃষকদের ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসবের সঙ্গে সরকার জড়িত নয় বলেই আমরা মনে করি। তবে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী আছে। যারা সব সরকারের আমলে সুবিধা নেয় ও দুর্নীতি করে। এরাই সরকারকে ডুবায়। এদের সম্পর্কে সজাগ থাকার জন্য সরকারকে আমরা বলেছি।
এ সময় এরশাদের পুত্র রাহগির আল মাহি এরশাদ ওরফে শাদ এরশাদ বলেন, দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি সদর আসনের উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাই। আমি আমার বাবা এরশাদের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করব। একইসঙ্গে বাবার মতো রংপুরের মানুষের সেবা করব।
এর আগে শাদ ও জাপা নেতা নাসিম ওসমানসহ অন্য নেতাদের নিয়ে এরশাদের কবর জিয়ারত এবং ফাতেহা পাঠ করেন দলের মহাসচিব রাঙ্গা।
এ দিকে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও কুলখানিতে উপস্থিত ছিলেন জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদও। সেখানে এরশাদের কবর জিয়ারত করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কুলখানিতে রওশনের কান্নায় আবেগঘন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় তাকে সান্ত্বনা দেন জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা।
তবে দোয়া মাহফিলে বেগম রওশন এরশাদ উপস্থিত থাকলেও কোনো মন্তব্য করেননি। এরশাদের মৃত্যুর পর রংপুরে প্রথমবার এলেও তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি।
দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুহুল আমিন হাওলাদার, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ জাতীয় পার্টি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
গত ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাপার চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এরশাদের মৃত্যুতে রংপুর সদর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।










Comments are closed.