আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে আবারও জিহাদের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেন, ‘এখন বন্দুক হাতে তুলে নেওয়ার সময় চলে এসেছে। আমি কাশ্মীরিদের দূত হয়েছি, কারণ আমি একজন পাকিস্তানি।’
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো ‘এনডিটিভি’ ফলাও করে জানায়, গত শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় বিকালে উপত্যকাটির মুজফফরাবাদ জেলায় আয়োজিত এক সমাবেশে ইমরান এসব কথা বলেন।
সভায় পাক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এখনো আমাদের সবাইকে কাশ্মীরের ওপর মানবিকতার দিক থেকে নজর দিতে হবে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বলতে চাই, কোনো কাপুরুষই একমাত্র এমন কাজ করতে পারে। টানা ৪০ দিন যাবত কার্যত থমকে আছে কাশ্মীর। আপনাদের মানবিকতা থাকলে আজ এমনটা করতে পারতেন না।’
মুজফফরাবাদের সেই সভায় ইমরান খান আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদী ও তার আরএসএস কাশ্মীরে যা করছে, সেটা মোটেও ঠিক কাজ নয়। তারা জুলুম করে কখনই সফল হতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘আরএসএস শুরু থেকেই মুসলিমদের ঘৃণা করে। আর একদম ছোট বেলা থেকেই মোদী সেই সংগঠনের সদস্য। কাশ্মীরের ওপর নজর সকলেরই রয়েছে। আপনারা জানেন, ধর্মীয় মেরুকরণ মানুষকে সব সময়ই মৌলবাদের দিকে ঠেলে দেয়। তাই এবার মানুষকে প্রতিহিংসার পথে ঠেলে দিচ্ছেন মোদী। আমাদের ধর্ম শান্তির পক্ষে; তাই আমরা কোনো সংঘাত ছারাই সংকটটির সমাধান করতে চাই।’
গত এক মাসে এনিয়ে তৃতীয়বারের মতো পাক অধিকৃত কাশ্মীরে পা রাখলেন ইমরান খান। যার অংশ হিসেবে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে জম্মু ও কাশ্মীরে চলমান সমস্যাটি তুলে ধরবেন তিনি। যদিও একই দিন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সেখানে বক্তৃতা দিতে পারেন।
এর আগে গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছিল ক্ষমতাসীন মোদী সরকার। যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিতর্কিত লাদাখ ও জম্মু ও কাশ্মীর সৃষ্টির প্রস্তাবেও সমর্থন জানানো হয়।
এসবের মধ্যেই চলমান কাশ্মীর ইস্যুতে পাক-ভারত মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে একে একে ভারত সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী পাকিস্তান। যে কারণে ভারত সরকার রাজ্যটি থেকে টেলিফোন, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটসহ সব ধরনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। যদিও এর প্রায় সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী সেখানে যোগাযোগটি স্থাপন করতে সক্ষম হয়।
তবে এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারত পাশে পেয়েছে রাশিয়াকে এবং পাক সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ ইরান। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারসহ রাজ্যের স্থানীয় প্রশাসন সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে জানানো হলেও; কাশ্মীর জুড়ে এখনো সংঘর্ষ ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি পাকিস্তানের।










Comments are closed.