জনবল সংকটে অচল স্বাস্থ্যকেন্দ্র, চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী

3784
20452

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: চিকিৎসক ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১২ নম্বর গাবুরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের কার্যক্রম মুখ থুঁবড়ে পড়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার না থাকায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে প্রত্যন্ত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম। এতে জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বর্তমান সরকারের সব উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে।

এদিকে চিকিৎসক, কর্মচারী না থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গবাদী পশু পালনে ব্যবহার করছেন স্থানীয়রা। এতে প্রত্যন্ত এলাকার বিপন্ন রোগীরা চিকিৎসা নিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলেও হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে তাদের। এই অবস্থায় উপজেলা সদরের প্রাইভেট হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসতে বাধ্য হচ্ছেন বিপন্ন মানুষগুলো।

অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত গাবুরা ইউনিয়নের জনগণ। এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রায় একযুগ আগে এখানে স্থাপন করা হয় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্রটি। প্রতিটি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে একজন করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, উপ-সহকারী কমিউনিটি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ফার্মাসিস্ট, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, পিয়ন ও আয়া থাকার কথা। কিন্তু ইউনিয়নের একটি মাত্র স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক নেই।

গাবুরা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. অতিয়ার রহমান বলেন, শুরু থেকেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে ব্যর্থ। এখন তো স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির জানালা দরজাও নষ্ট হয়ে গেছে। ভবন সংস্কারও জরুরি হয়ে পড়েছে।

গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম মাসুদুল আলম জানান, এখানে একজন করে উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার, প্যারামেডিক্যাল এবং ভিজিটর দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকলেও এদের কেউই এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসেননি। দোতলা বিশিষ্ট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে নানা সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা এখানে না আসায় ভবনটিও দিন-দিন হতশ্রী হয়ে পড়ছে। বাইরের কলাপসিবল গেট তালাবদ্ধ থাকায় এর সামনে স্থানীয় লোকজন গবাদীপশু পালন করা শুরু করেছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান আরো বলেন, গাবুরা ইউনিয়নের প্রায় ৪৭ হাজার মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছিল। প্রথমদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে প্রতিদিন বহু মানুষ চিকিৎসা নিতে ভিড় করতেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠার কয়েকবছর যেতে না যেতেই এতিমের মতো হয়ে পড়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। এ কারণে সাধারণ মানুষকে জরুরি চিকিৎসা সেবা পেতে হলে দীর্ঘ কপোতাক্ষ ও খোলপাটুয়া নদীপথ বা কাঁদাপথ পেরিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হয়। এই পরিস্থিতিতে মাঝপথেও অনেক বিপন্ন রোগী তাৎক্ষণিক চিকিৎসার অভাবে মারা পড়েন। এনিয়ে জেলা ও উপজেলার স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

এ ব্যাপারে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পকনা কর্মকর্তা শাকির হোসেন বলেন, সপ্তাহে দুদিন গাবুরা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রটি খোলা হয়। জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত খোলা সম্ভব হয় না। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। আমরা শুধু লিখতে পারি। আমরা আমাদের ওপরের কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রওশন আরা জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনিও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পকনা কর্মকর্তার সুরে বলেন, জনবল সঙ্কটের কারণে ওখানে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। জনবল নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত আমরা কিছুই করতে পারব না।