থানার সাবেক ওসিসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ মামলা

0
286

নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনার জিআরপি থানার সাবেক ওসি ওসমান গনি পাঠানসহ ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন এক গৃহবধূ। সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক মো. মহিদুজ্জামান এ মামলা আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে করে খুলনায় আসার পথে রাতে ফুলতলা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ওই গৃহবধূকে মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক করে। পরে ওই রাতে তাকে খুলনা জিআরপি থানা হাজতে রাখা হয়। পরদিন ৩ আগস্ট তার কাছ থেকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার দেখিয়ে একটি মামলা দিয়ে তাকে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর ৪ আগস্ট জামিন শুনানির জন্য তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় জিআরপি থানায় রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ।

ভিকটিম বলেন, ওসি ওসমান গনি পাঠানসহ ৫ পুলিশ সদস্য তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর আদালতের নির্দেশে ৫ আগস্ট খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পাকশি রেলওয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে ধর্ষণের অভিযোগ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন, কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ। আর কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ.ম. কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম।

এ কমিটি ৬ আগস্ট থেকে তদন্ত শুরু করেন। ৭ আগস্ট ওসি ওসমান গণি এবং এসআই নাজমুলকে ক্লোজড করে পাকশি নেওয়া হয়। ৮ আগস্ট পাকশি ও ঢাকা থেকে গঠিত পৃথক দুটি তদন্ত টিমের সদস্যরা আদালতের অনুমতি নিয়ে জেল গেইটে ভিকটিমের জবানবন্দি নেন। এরপর আদালতের নির্দেশে ৯ আগস্ট ৫ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে জিআরপি থানায় হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে ফিরোজ আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাকশি থেকে গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সাত দিনের সময় দেওয়া হয়। ওই সাত দিন সময় শেষে ১৩ আগস্ট আরও ১৫ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করা হলে তা অনুমোদন হয়। এ দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১৪ আগস্ট ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালতে ১৯ আগস্ট শুনানি শেষে ১০ দিনের মধ্যে ভিকটিমকে জেলগেইটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি দেয়।