নিজস্ব প্রতিবেদক : হাইকোর্টের দুই বিচারপতির স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রায় তৈরি করায় চট্টগ্রাম বন্দর ডক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আহাদকে তলব করেছেন হাইকোর্ট।
একইসঙ্গে আবদুল আহাদকে যথাসময়ে আদালতে হাজির করতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ও বন্দর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ২৪ জুন তাকে সশরীরে হাইকোর্টে হাজির হয়ে জালিয়তির বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
জালিয়াতির বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
হাইকোর্টের এক বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ (সিনিয়র) বিচারপতিকে অপর বেঞ্চের কনিষ্ঠ (জুনিয়র) বিচারপতি দেখিয়ে এই জালিয়তি ঘটনা ঘটানো হয়। এমন জালিয়াতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কার্টের আইনজীবী মো. ইব্রাহিম খলিল।
আদেশের আগে বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর বলেন, এটা দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে এটা জাল। কারণ যে রায় বানানো হয়েছে তাতে দেখানো হয়েছে বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ। অথচ বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক আমার চেয়ে সিনিয়র। সুতরাং বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের সমন্বয়ে কোনো হাইকোর্ট বেঞ্চ থাকার প্রশ্নই আসতেপারে না।
ইব্রাহিম খলিল আদালতে বলেন, ২০০৯ সালে শ্রম আইন সংশোধন করা হয়। আইনের ১৮৫ (ক)(২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে একটি করিয়া ট্রেড ইউনিয়ন থাকবে।’ এই বিধান অনুসারে এক মামলার আপিল নিষ্পত্তি করে ২০১৫ সালের ২৩ এপ্রিল ঢাকাস্থ শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল চিটাগং বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক-কর্মচারী লীগকে রেজিস্ট্রেশন দিতে যথাযথ কতৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
আদেশ অনুযায়ী ‘চিটাগং বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক-কর্মচারী লীগ’ নামের একটি ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন পায়। যার নম্বর চট্ট-২৭৪৭। পরবর্তীতে জয়েন্ট ডিরেক্টর অব লেবার (রেজিট্রেশন অব ট্রেড ইউনিয়ন) চিটাগং বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক-কর্মচারী লীগকে সিবিএ ঘোষণা করেন। ফলে চিটাগং বন্দর ডক শ্রমিক ইউনয়ন নামের ট্রেড ইউনিয়নের বিলুপ্তি ঘটে।
এরপর চিটাগং বন্দর ডক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আহাদ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি চিটাগং বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক-কর্মচারী লীগের রেজিস্ট্রেশনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন। এরপর বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেন। এই রুল এখন বিচারাধীন।
অথচ এ বিষয়ে রিট আবেদনকারীর পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের প্রথম শ্রম ট্রাইব্যুনালে হাইকোর্টের একটি রায়ের কপি দাখিল করা হয়েছে। হাইকোর্টের যে আদেশনামা দাখিল করা হয় তাতে দেখা যায়, বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের সমন্বয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১২ এপ্রিল রায় দিয়েছেন।
রায়ে চিটাগং বন্দর ব্যবহারকারী শ্রমিক-কর্মচারী লীগকে দেয়া রেজিস্ট্রেশন ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে লেবার আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রায়ের কপিতে রিট আবদেনকারীপক্ষের আইনজীবী দেখানো হয়েছে মোহাম্মদ আলীকে। এই রায়ের কপি আদালত দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন।বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর রায়ের কপি দেখে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এবং হাইকোর্ট বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ডেকে পাঠান। আদালত বিষয়টি যাচাই করতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
ওদিকে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী বিদেশ থাকায় তার জুনিয়র নিগার সুলতানা আদালতে হাজির হয়ে বলেন, এই মামলায় আইনজীবী ছিলেন ড. একেএম আলী। হাইকোর্ট শুধুই রুল জারি করেছেন যা বিচারাধীন।
একইভাবে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা কর্মকর্তা আদালতকে জানান, যে নথি সংরক্ষিত আছে তাতে শুধুই রুল জারির তথ্য রয়েছে।









Comments are closed.