সিরিয়া পৌঁছেছে আরও তিনশ রুশ সেনা

    0
    260

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি গেরিলাদের বিরুদ্ধে তুর্কি সেনাদের ব্যাপক অভিযানের পর অঞ্চলটিতে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যা নিয়ে এবার ইস্যুটি নিয়ে মস্কো-আঙ্কারা মধ্যকার স্বাক্ষরিত চুক্তির অনুযায়ী রাশিয়ার অতিরিক্ত তিনশ সামরিক পুলিশ সিরিয়ায় পৌঁছেছে। উচ্চ পর্যায়ের এই চুক্তির অধীনে রুশ সামরিক পুলিশ এবং সিরীয় সীমান্ত রক্ষীরা আগামী মঙ্গলবারের (২৯ অক্টোবর) মধ্যে সকল কুর্দি ওয়াইপিজি মিলিশিয়াকে তুর্কি সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে সরিয়ে দিবে।

    শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্স’ জানায়, রাশিয়ান সামরিক পুলিশের সদস্যরা মূলত ওয়াইপিজি মিলিশিয়া বাহিনীকে প্রত্যাহার কিংবা তাদের সরে যাওয়া পর্যবেক্ষণ করবে। যার অংশ হিসেবে অভিযানে ষষ্ঠ দিন থেকে রুশ এবং তুর্কি সেনারা একত্রিতভাবে সিরিয়া সীমান্তের ১০ কিলোমিটার ভেতরে টহল পরিচালনা করবে।

    এ দিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কুর্দি গেরিলারা অবিলম্বে অঞ্চলটি ছেড়ে না গেলে সিরিয়ার সীমান্তরক্ষী ও রুশ সামরিক পুলিশ সেখানে আর তাদের নিরাপত্তা দিবে না। যার মাধ্যমে অবশিষ্ট কুর্দি যোদ্ধাদের খুব শিগগিরই তুর্কি সেনাদের মুখোমুখি হতে হবে।’

    অপর দিকে বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সিরিয়ার তুর্কি সীমান্ত এলাকায় কুর্দি গেরিলাদের বিরুদ্ধে তুর্কি অভিযানে রুশ সম্পৃক্ততাকে একটি ‘অপ্রত্যাশিত’ ঘটনা বলেও আখ্যায়িত করেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার। তিনি বলেছিলেন, ‘আঙ্কারার প্রত্যাশিত নিরাপদ এলাকা গঠনে রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ টহলের চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে তুরস্ক সম্পূর্ণ ভুল পথে অগ্রসর হচ্ছে। যার মধ্য দিয়ে তারা ওয়াশিংটনকে একটি মারাত্মক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলতে যাচ্ছে। যা কারই কাম্য নয়।

    গত ৯ অক্টোবর সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত প্রায় হাজার খানেক মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূলত এর পরপরই সিরিয়ায় কুর্দি নিধনের নামে অভিযান শুরু করে তুরস্ক।

    বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তুরস্ক আশ্বস্ত করেছে, এবারের যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে। যে কারণে ওয়াশিংটনও আঙ্কারার ওপর সম্প্রতি আরোপিত সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিতে যাচ্ছে।’

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমাদের ন্যাটো বাহিনীর অন্যতম মিত্র এই তুরস্ক এবং সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ), যারা কিনা সিরিয়ায় তাণ্ডব চালানো ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) শক্ত হাতে পরাস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’

    তিনি বলেন, ‘এবার তাদের মধ্যকার লড়াই থামাতে পেরে আমরা একটা বড় রকমের কাজ করেছি। আশা করছি, ভবিষ্যতে এমনটা আর হবে না।’