বিভক্তির পরও কাশ্মীরে কবরের নিস্তব্ধতা, দাবি বিরোধীদের

0
290

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চূড়ান্ত উত্তেজনার মধ্যেই এবার বিভক্ত করা হয়েছে ভূস্বর্গ খ্যাত ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখকে। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে অঞ্চলটিকে পৃথক করা হয়। যেখানে জম্মু ও কাশ্মীরকে একসঙ্গে এবং চীন সীমান্ত সংলগ্ন লাদাখ উপত্যকাকে অন্য অংশে বিভক্ত করা হয়েছে।

যদিও এত কিছুর পরও কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং সেখানে এখনো কবরের নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে বলে এরই মধ্যে অভিযোগ করেছে দেশটির অন্যতম বিরোধীদল সিপিএম। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাশ্মীরের সাবেক বিধায়ক ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য মোহাম্মাদ ইউসুফ তারিগামী এ মন্তব্য করেন। খবর ‘পার্সটুডের’

বিভক্তির পর কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সিপিএমের এই নেতা বলেছেন, ‘কাশ্মীরিরা এখন এক ভয়াবহ সময় অতিবাহিত করছেন। যা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ এবং চরিত্রের ওপর মারাত্মকভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে।’

মোহাম্মাদ ইউসুফ তারিগামী আরও বলেন, ‘বর্তমানে জনজীবন পঙ্গু হয়ে গেছে। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খোলা হলেও সেখানে নেই কোনো শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থী!’

তার ভাষায়, ‘এর আগেও বিভিন্ন সময় রাজ্যে অনেক অশান্তি দেখেছি। গত প্রায় ৩০ বছর যাবত অর্থাৎ ১৯৮৯ সাল থেকে রাজ্য রক্তপাতের ঘটনা ঘটে আসছে। ধ্বংস হয়েছে এমনকি সহিংসতাও ঘটেছে তবে এমন পরিস্থিতি কখনো হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সকল ভারতবাসীর প্রতি অনুরোধ করছি, খুব বেশি দেরি হওয়ার আগেই আপনারা ঘুম থেকে উঠুন। কেননা খুব শিগগিরই দেশের বাকি অংশের গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে যাবে।’

এর আগে গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছিল ক্ষমতাসীন মোদী সরকার। যার প্রেক্ষিতে পরবর্তীকালে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে বিতর্কিত লাদাখ ও জম্মু-কাশ্মীর সৃষ্টির প্রস্তাবেও সমর্থন জানানো হয়।

জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পর থেকেই অঞ্চলটিতে প্রায় ১০ লাখ সেনা মোতায়েন করে ভারত। বন্ধ করে দেওয়া হয় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা। এর মধ্যে সেখানে মোবাইল ফোন সেবা চালু হলেও ইন্টারনেট সেবা এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

এসবের মধ্যেই চলমান কাশ্মীর ইস্যুতে পাক-ভারত মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে একে একে ভারত সরকারের সঙ্গে বাণিজ্য, যোগাযোগসহ সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশী পাকিস্তান। যদিও এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারত পাশে পেয়েছে রাশিয়াকে এবং পাক সরকারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশ ইরান ও এশিয়ার পরাশক্তি চীন।