বাংলাদেশকে কোথায় উন্নতি করতে হবে দেখিয়ে দিলেন কোহলি

0
295

ক্রীড়া প্রতিবেদক: ভারতের বিপক্ষে দুই টেস্টেই অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে বাংলাদেশ। ফলে দুই ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হারতে হয়েছে মুমিনুলদের। ওয়ানডেতে বর্তমানে অন্যতম শক্তিশালী দল বাংলাদেশ। সাদা পোশাকে নামলেই যেন তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এর নেপথ্যের কারণগুলো দেখিয়ে দিলেন স্বয়ং প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ আসতেই কোহলি বলেন, দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অভাব রয়েছে। এ ম্যাচে ছিলেন কেবল মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। দুইজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার নিয়ে খুব বেশি ভালো ফলাফল আসা করা যায় না বলেই দাবি কোহলির। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুজন ক্রিকেটার ছাড়াই তারা খেলতে নেমেছে। সাকিব নেই, তামিম নেই। মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহ আছে শুধু। কিন্তু কেবল দুজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার দিয়ে আপনি একটা দলের কাছ থেকে খুব বেশি কিছু আশা করতে পারেন না। দলের বাকি ক্রিকেটাররা তরুণ, তাই তারা এখান থেকেই অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। তারা যত বেশি টেস্ট খেলবে তত বেশি অভিজ্ঞ হবে। যদি আপনি এখন দুটো টেস্ট খেলেন এবং এরপর আবার দেড় বছর পর টেস্ট খেলতে নামেন তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন না চাপের পরিস্থিতিতে কীভাবে খেলতে হয়।’

এছাড়া বিশ্ব ক্রিকেটের একটা ধারণা প্রচলিত রয়েছে, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বেশি আবেগি। কোহলিও জানেন সেটা। তাইতো তিনি বললেন, শুধু আবেগ দিয়ে ক্রিকেট হয় না। কোহলি বলেন, ‘ভালো খেলতে প্রেরণা ও আবেগের পাশাপাশি যুক্তিও থাকতে হবে। আপনি যদি আবেগ দিয়ে খেলতে বলেন এবং অর্থনৈতিক দিকটা ভুলে যান, তাহলে একজন পেশাদার ক্রিকেটারের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে যায়। কারণ, একজন ক্রিকেটারের জন্য অন্য কোনো পেশার খোঁজ করা–হয়তো সে কাজই পাবে না, কারণ সে কেবল ক্রিকেটটাই খেলতে পারে। আমার মনে হয়, এর একটা পথ আমরা বের করেছি এবং এখন এটার ফল আপনারা দেখতে পারছেন।’

ভালো টেস্ট দল গড়তে অর্থনৈতিক নিশ্চয়তারও দরকার দাবি করে কোহলি বলেন, ‘আমি মনে করি, শেষ পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে শক্তিমত্তার দিকটা অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। যদি টেস্ট ক্রিকেটারদের ভালো একটা অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা না দেওয়া হয়, তাহলে কিছুদিন পরেই তাদের অনুপ্রেরণার জায়গাটা কমে যাবে। কারণ কিছু ক্রিকেটার আছে যারা ২০ ওভারের খেলায় চার ওভার বোলিং করে আরেকজনের চেয়ে দশ গুণ বেশি অর্থ উপার্জন করছে। দিন শেষে, এটা আপনার জীবিকা। তাই ৫-৬ বছর পর আপনি আর খেলা চালিয়ে যাবার যুক্তি খুঁজতে যাবেন না। আপনি তখন কেবল টি-টুয়েন্টি খেলার কথা বলে দেবেন।’

এছাড়া বোর্ড ও ক্রিকেটারদের টেস্টের গুরুত্ব বুঝতে হবে উল্লেখ করে ভারতীয় অধিনায়ক বলেন, ‘দক্ষতা অবশ্যই আছে। যারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে, যোগ্য বলেই খেলছে। তবে ম্যাচের পরিস্থিতি বোঝা বা কী করে আরও ভালো করতে হয় সেটা বোঝা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যেটা আমি বললাম, বোর্ড ও খেলোয়াড়দের অনুধাবন করতে হবে তাদের কাছে এটার গুরুত্ব কেমন। কেবল মাত্র তখনই আপনি টেস্ট ক্রিকেটে সামনে এগোতে পারবেন।’

সবশেষে ক্রিকেট বোর্ডকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ক্রিকেটারদের ভূমিকা শুধুমাত্র একটা নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত থাকে। আপনার ক্রিকেট বোর্ড এটা কীভাবে সামলাচ্ছে, সেটার একটা ভূমিকা থাকে। আমি নিশ্চিত নই, টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে বাংলাদেশের বোর্ড কীভাবে আলোচনা করে, কীভাবে এটাকে প্রমোট করা হয় বা কতটুকু গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমাদের এখানে তাই ইতিবাচক বদল আনা হয়েছে যাতে ক্রিকেটাররা আরও নিবেদিত হয়।’