একনেকে ৯ প্রকল্প অনুমোদন

0
289

অনুসন্ধান নিউজ ডেস্ক : প্রায় তিন হাজার ২২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ৯টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পুরো ব্যয় সরকার বহন করবে।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

এম এ মান্নান বলেন, দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি আরবি, স্প্যানিশ, জাপানি, ফারসি ভাষা শেখার ওপর জোর দেওয়ার জন্য আইসিটি বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন তারা দুটি ভাষা শেখাচ্ছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনে বিদ্যুৎ বিল গ্রহণের জন্য দ্রুত প্রি-পেইড মিটার বসানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে প্রায়ই সমস্যা হয়। প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায় অবিলম্বে সংসদের সব ভবনে বা সব কারেকশনে প্রি-পেইড মিটার লাগানোর নির্দেশ দেন। প্রি-পেইড মিটার ইদানীং আমাদের অনেক জায়গায় লাগানো হচ্ছে। আমাদের সংসদ ভবনের অফিস ও বাসভবনেও ফ্রি প্রি-পেইড মিটার লাগান, এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ।

মন্ত্রী বলেন, এমনিতেই সারাদেশে আমরা প্রি-পেইড মিটার দিচ্ছি। যেহেতু সারাদেশে প্রি-পেইড মিটার লাগাচ্ছি, তাহলে এখানে লাগাব না কেন, এখানেও লাগাবে। বড় বড় সেতু বানানোর ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তাগিদ দিয়েছেন বলেও জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন, আশ্রয়ন-৩ প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল দুই হাজার ৩১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। সেখান থেকে ৭৮২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বেড়েছে। এখন মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৯৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানাধীন চরঈশ্বর ইউনিয়নের ভাসানচরে মিয়ানমারের এক লাখ নাগরিকের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বনায়ন করা হবে। এছাড়া দ্বীপটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও নির্মাণ করা হবে।

আশ্রয়ন-৩ প্রকল্পের জন্য খরচ বাড়ানো হয়েছে ৭৮২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এছাড়া খাদ্যশস্যের পুষ্টিমান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রিমিক্স কার্নেল মেশিন ও ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা; শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৫৩৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা; আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজির সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৪০ কোটি ২৭ লাখ টাকা; দিঘলিয়া-আড়ুয়া-গাজীরহাট-তেরখাদা সড়কের প্রথম কিলোমিটারে ভৈরব নদীর ওপর ভৈরব সেতু নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ-কাজিপুর-ধুনট-শেরপুর এবং সিরাজগঞ্জ-ধুনট মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৯৮৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

এ দিকে, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন, সংসদ সদস্য ভবন ও এমপি হোস্টেল আনুষঙ্গিক স্থাপনার নির্মাণও আধুনিকায়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৩৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা; বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে লেভেল ক্রসিং গেইটসমূহের পুনর্বাসন ও মান উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের লেভেল ক্রসিং গেইটসমূহের পুনর্বাসন ও মান উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৪৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

একনেক সভায় উপস্থিত ছিলেন—অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পরিকল্পমন্ত্রী এম এ মান্নান, এসএমই সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাবুদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা।