আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে সহিংসতা বাড়ছেই। গত কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। যার ধারাবাহিকতায় উত্তরপ্রদেশের বহু অঞ্চলে পুলিশকে গুলি চালাতে দেখা গেছে।
যদিও রাজ্য পুলিশ এরই মধ্যে বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তবে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজগুলোতে বিক্ষোভকারীদের দিকে পুলিশের গুলি চালানোর প্রমাণ মিলেছে।
গণমাধ্যম ‘এনডিটিভি’ জানায়, শনিবার (২১ ডিসেম্বর) কানপুরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে এ দাবির সত্যতা পাওয়া যায়। ভিডিওতে দেখা গেছে, কানপুরে এক পুলিশ সদস্য তার রিভলবার দিয়ে একের পর এক গুলি ছুড়ছেন।
ওই পুলিশ সদস্য হেলমেট ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরা ছিলেন। বিক্ষোভের সময় একটি রিভলবার এবং লাঠি নিয়ে হাঁটতে দেখা যায় তাকে। পরে এক কোনায় দাঁড়িয়ে গুলি করতে শুরু করেন তিনি।
কলকাতাভিত্তিক গণমাধ্যম ‘আনন্দবাজার’ জানায়, সেফটি জ্যাকেট ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছিলেন। তখন বিক্ষোভকারীদের হটাতে তারা কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেন। এ সময় রিভলবার নিয়ে সামনের দিকে ছুটে যান বাহিনীর এক সদস্য। তখন পিছনে থাকা পুলিশদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সবকটাকে মেরে ফেল।’ আর সে কথা শুনেই ট্রিগার চাপতে শুরু করে ওই অফিসার।
রাজ্য পুলিশের ডিরেকটর জেনারেল ওপি সিং বলেছেন, ‘সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে কেউই পুলিশের গুলিতে মারা যায়নি। কেননা আমাদের পুলিশবাহিনী একটিও গুলি চালায়নি।’
গত ৯ ডিসেম্বর ভারতের লোকসভায় বহুল আলোচিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হয়। বিলটিতে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা অমুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পার্লামেন্টে বিলটি ক্ষমতাসীন বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ উত্থাপন করেন।
পরে ১১ ডিসেম্বর রাজ্যসভায় বিলটি পাস হয়। বিলের পক্ষে ভোট পড়েছে ১২৫টি। বিপক্ষে পড়েছে ১০৫টি ভোট। ১২ ডিসেম্বর রাতে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিতর্কিত বিলটি আইনে পরিণত হয়।
WATCH: A video that nails the claims of UP Police that it never fired a single bullet! The video is of yesterday from Kanpur. pic.twitter.com/O4RazguIM2
— Prashant Kumar (@scribe_prashant) December 22, 2019









