নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিভুক্তির দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচিতে সঙ্গতি প্রকাশ করেছেন ঠাকুরগাঁও- ৩ (পীরগঞ্জ ও রানীশংকৈল) আসনের সংসদ সদস্য ওয়ার্কার্স পার্টির অধ্যাপক ইয়াসিন আলী। তিনি বলেন, শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি ন্যায্য তারা বছরের পর বছর বিনা বেতনে চাকরি করছেন যা অমানবিক। সরকারের উচিত দাবি মেনে নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া।
মঙ্গলবার বেলা পৌনে ২টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিভুক্তির দাবিতে নবম দিনের মতো চলা আমরণ অনশনের কর্মসূচিতে উপস্থিত হন তিনি। পরে সেখানে সঙ্গতি প্রকাশ ও দাবি বাস্তবায়নে জোরালো ভূমিকা রাখার কথাও বলেন তিনি।

কুশলাদি বিনিময়ের পর আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে ঠাকুরগাঁও জেলা ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি বলেন, আমি নিজেও শিক্ষক। শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকদের এই ন্যায্য দাবির বিষয়টি উপলব্ধি করি। আমি যখনিই সুযোগ পেয়েছি কথা বলেছি এ ব্যাপারে। আমি সংসদের বাজেট বক্তৃতায় ১০ মিনিটের মধ্যে ২/৩ মিনিট নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি নিয়ে কথা বলেছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের কর্ণধার। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মানে ও পদকে ভূষিত হয়েছেন। তিনি মানবিক প্রধানমন্ত্রী। আশা করছি প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন এবং দাবি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেবেন।
তিনি বলেন, বাজেট বক্তৃতায় বলেছি, নন-এমপিও শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়ন হোক। যদিও বাজেটে এমপিওভুক্তির বরাদ্দ সেভাবে দেয়া হয়নি। তবে বাজেটের সমাপনী বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ১ জুলাই থেকে এমপিওভুক্তি কার্যকর হবে। আমি বাজেটের বক্তৃতায় বলেছি, আংশিক নয় সব প্রতিষ্ঠানকে অর্ন্তভুক্তির জোর দাবি করেছি। যদি অর্থের সংকুলান না হয় তবে অর্ধেক বেতন দিয়ে হলেও সবাইকে অর্ন্তভুক্ত করেন।

সংসদ সদস্য ইয়াসিন আলী বলেন, আশা করি, আপনাদের আন্দোলন সফল হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের বিষয়টি মানবিকভাবে গ্রহণ করবেন।
আন্দোলনকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে অধ্যাপক ইয়াছিন আলী বলেন, সরকারের যারা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেন তাদের কাছে তুলে ধরতে হবে। আমরা সংসদ সদস্যরা জোরালো ভূমিকা রাখবো। সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বক্তব্য তুলে ধরবো।
ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে ২৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করেছেন ঠিক সেভাবেই নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিও অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আমি আপনাদের এ আন্দোলনে সমর্থন ও সমবেদনা জানাচ্ছি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদু্ন্নবী ডলার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায়।

বিনয় ভূষণ বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর দফতরে গিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দুটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। আশা করছি, ২/১ দিনের মধ্যে আমরা ভালো সংবাদ পাবো। নইলে আন্দোলন চলবে।
দাবি দুটি হলো সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আওতায় এনে আংশিক বেতন চালু করে পরবর্তী অর্থবছরে তা সমন্বয় করা। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্ত না হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য এমপিওভুক্তির পর তিন বছর সময় দেয়া।
চলতি ২০১৮-১৯ বাজেটে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য বরাদ্দের কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা না থাকায় ফের আন্দোলনে নামেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।








