যেখানে গাঙ্গুলি-ইমরান-লারার চেয়ে এগিয়ে মাশরাফি

0
276

স্পোর্টস ডেস্ক : দেশের জার্সিতে মাশরাফির বর্ণাঢ্য অধিনায়কত্বের সমাপ্তি ঘটল। গতকাল (শুক্রবার, ০৬ মার্চ) সিলেটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে শেষবারের মতো জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেন তিনি। এ ম্যাচে লিটন-তামিমের রেকর্ড জুটিতে ডাকওয়ার্থ লুইস মেথড অনুয়ায়ী ১২৩ রানে জিতেছে বাংলাদেশ।

৩-০তে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে ৫০তম জয় পেলেন অধিনায়ক মাশরাফি। প্রথম বাংলাদেশি অধিনায়ক হিসেবে এ রেকর্ড গড়লেন নড়াইল এক্সপ্রেস। বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা হাবিবুল বাশার জিতেছেন ২৯টি ম্যাচ। এতে বোঝা যাচ্ছে মাশরাফি বাংলাদেশের অধিনায়কদের মধ্যে কতটা সফল! বর্তমানে খেলা তারকাদের মধ্যে সাকিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জিতেছে ২৩টি ওয়ানডে। তাই বলাবাহুল্য, নিষেধাজ্ঞার পর নেতৃত্ব পেলেও মাশরাফির এ রেকর্ড ভাঙতে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে সাকিবকে।

দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে মাশরাফির এ অর্জন প্রথম। তবে বিশ্ব ক্রিকেটে এর আগে এমন কীর্তি গড়েছেন ২৪ জন অধিনায়ক। এর মধ্যে তিনজন অধিনায়কের রয়েছে শততম ওয়ানডে জয়ের বিরল রেকর্ড।

জয়ের সংখ্যায় সবার ওপরে অস্ট্রেলিয়ার দুইবারের বিশ্বকাপ জয়ী রিকি পন্টিং। ২০০২ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তার নেতৃত্বে ২৩০ ম্যাচে ১৬৫টিতে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। এরপরেই আছেন ২০১১ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। ২০০৭ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২০০টি ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দেন ক্যাপ্টেন কুল। আর এ সময়ে টিম ইন্ডিয়ার জয় ১১০টিতে। তৃতীয় স্থানে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক অ্যালান বোর্ডার। তার নেতৃত্বে ১৭৮ ম্যাচের মধ্যে ১০৭টিতে জিতেছে অজিরা। আর একটির জন্য সেঞ্চুরি পেলেন না দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়াত অধিনায়ক হানসি ক্রোনিয়ে। সে হিসেবে বাংলাদেশের মাশরাফি বেশ পিছিয়ে।

তবে অধিনায়কত্বের সফলতা শুধু জয় দিয়ে পরিমাপ না করে কত ম্যাচ খেলতে হয়েছে তাও হিসেবের আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ। নেতৃত্বের শুরুতে জয়-পরাজয়ের অনুপাতে সর্বকালের সেরাদের কাতারেই ছিলেন মাশরাফি। কিন্তু ২০১৮ সাল থেকে ধীরে ধীরে সেটা কমে আসে। তবু ৮৮ ম্যাচে ৫০টি জয় একেবারেই মন্দ না। জয়ের অনুপাতে তার নেতৃত্বে ৫৮.১৩ শতাংশ ওয়ানডে জিতেছে বাংলাদেশ।

জয়ের সংখ্যায় মাশরাফি ২৫তম হলেও জয়ের অনুপাতে আছেন ১৭তম স্থানে। জয়ের অনুপাতে মাশরাফির নিচে অবস্থান করছেন বিশ্বকাপ জয়ী ইমরান খান (৫৫.৯২ ভাগ), অর্জুনা রানাতুঙ্গা (৪৮.৩৭ ভাগ), ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি (৫৩.৫২ ভাগ) ও কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা (৫০ ভাগ)।

মাশরাফির চেয়ে এগিয়ে আছেন যেসব অধিনায়ক
সনাথ জয়াসুরিয়া (৫৮.২৬)
মাহেলা জয়াবর্ধনে (৫৯.০৯)
মহেন্দ্র সিং ধোনি (৫৯.৫২)
এবি ডি ভিলিয়ার্স (৬০.১০)
ইনজামাম উল হক (৬০.৪৬)
অ্যালান বোর্ডার (৬১.৪২)
ওয়াসিম আকরাম (৬১.৪৬)
শন পোলক (৬৪.০৬)
গ্রায়েম স্মিথ (৬৪.২৩)
ভিভ রিচার্ডস (৬৫.০৪)
স্টিভ ওয়াহ (৬৫.২৩)
ইয়ন মরগান (৬৫.৪২)
মাইকেল ক্লার্ক (৭০.৪২)
বিরাট কোহলি (৭১.৮৩)
হানসি ক্রোনিয়ে (৭৩.৭০)
রিকি পন্টিং (৭৬.১৪)
ক্লাইভ লয়েড (৭৭.৭১)