দেশের প্রথম ফিল্ড করোনা হাসপাতালের যাত্রা শুরু সীতাকুণ্ডুতে

33
3819

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু করল দেশের প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল। কাজ করতে চাইলে দেশের মানুষের সংকটে এগিয়ে আসতে চাইলে যেকোন উপায়ে যেকোনো কাজ যে কারো দ্বারা সম্ভব। এমন‌ই একটি উদাহরণ সৃষ্টি করলেন চট্টগ্রামের সন্তান আমেরিকান ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক চিকিৎসক বিদ্যুৎ বড়ুয়া। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী বিপ্লব বড়ুয়ার বড় ভাই।

বিদ্যুৎ বড়ুয়া এক মাস আগে হাসপাতাল নির্মাণে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে একটি পোস্ট দেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। বিশ্ব করোনা প্রেক্ষিতে দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি বলেন, এক লাখ লোক ১০০ টাকা করে দিলে এক কোটি টাকার ফান্ড হবে এ টাকায় হাসপাতাল তৈরি সম্ভব।

বিষয়টি সবার নজরে পড়ে। এগিয়ে আসেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান নাভানা গ্রুপ। দেশের প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল হিসেবে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে উদ্যোগ গ্রহণের মাত্র ২৩ দিনের মাথায় মঙ্গলবার সকালে রোগী দেখার মধ্য দিয়ে এই হাসপাতাল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে যাত্রা শুরু করেন।

এতে করে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে সরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের মতো আরো একটি সেবা প্রতিষ্ঠানের সুযোগ সৃষ্টি হলো দেশে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান নাভানা গ্রুপের দেয়া একটি দ্বিতল ভবনের সাড়ে ছয় হাজার বর্গফুট জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে এই হাসপাতালটি। নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম ভবন ও জায়গা দিয়ে হাসপাতাল তৈরিতে প্রধান উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করেন। ৬০ শয্যা বিশিষ্ট এ অস্থায়ী হাসপাতলে ইতিমধ্যে ১০টি আইসিইউ বেড‌ ও চারটি ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক, নার্স ও স্বেচ্ছাসেবক মিলিয়ে ৩৫ জনের একটি দল গঠন করা হয়েছে। নবনির্মিত এ হাসপাতালে‌ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে প্রায় ২৮৭ জন তরুণ আবেদন করলেও ২৫ জনকে নির্বাচিত করেন কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে তাদেরকে করোনা রোগীর যত্ন বিষয়ক বিভিন্ন প্রশিক্ষণও দেয়া হয়েছে।

হাসপাতালের উদ্যোক্তা বিদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, এমন সময় আমরা এই হাসপাতালটি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে চালু করতে যাচ্ছি যখন সারাদেশে করোনা রোগীর চিকিৎসা নিয়ে নানা ধরনের দুর্ভোগের মুখোমুখি হচ্ছেন সাধারণ জনগণ। আমরা প্রমাণ করতে চাই করোনা রোগীরা অবহেলার পাত্র নয়। নিজেদের নিরাপদ রেখেও করোনা রোগীদের সেবা দেয়া যায়।

তিনি বলেন, আমরা ৩৭টি বেড স্থাপন করেছি। এছাড়াও থাকছে পাঁচটি ভেন্টিলেটর। রোগীদের চিকিৎসা ও পরিবহনের জন্য রয়েছে একটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি মাইক্রোবাস। ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে আমাদের। এখানে চিকিৎসক-নার্স ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা-সরঞ্জাম সামগ্রীর যোগান রয়েছে।

এ হাসপাতালটি মানুষের অর্থে ও ব্যক্তি উদ্যোগে হলেও এখানে চিকিৎসা হবে বিনামূল্যে। জ্বর-সর্দি-কাশির রোগীরাও যেতে পারবেন সেখানে। তাদেরও চিকিৎসা হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতাল উদ্বোধনের ব্যবস্থা করা হয়নি।

33 COMMENTS

Comments are closed.