এ,জে সুজন (কুষ্টিয়া) : কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পাহাড়পুরের চাঞ্চল্যকর দুই ভাই হত্যা মামলার চার্জশীটে হত্যার সাথে জড়িতদের বাদ দিয়ে চার্জশীট দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয় ঘটনার সাথে জড়িত নয় এমন ব্যক্তিকে মামলার চার্জশীটে আসামী করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অধিকতর তদন্তের জন্য মামলার বাদী আদালতে না-রাজী পিটিশন দিয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি মামলার তদন্তে মোটা অংকের অর্থ লেনদেন করেছে আসামী পক্ষ। চাঞ্চল্যকর এ মামলার চার্জশীটে হ-য-ব-র-ল অবস্থা হওয়ার কারনে সু-বিচার থেকে বঞ্চিত হবে ভুক্তভোগী পরিবার এমনটাই অভিযোগ উঠেছে।
সুত্রে জানা গেছে মামলার চার্জশীটে খুনের সাথে সরাসরি জড়িত পাহাড়পুর গ্রামের মিলির ছেলে মিলন ও খাদেমুল। তাদের মধ্যে মিলন উত্তর মিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবং খাদেমুল চাপড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করেন। কিন্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুইজনকেই একই স্কুলে শিক্ষকতা দেখিয়েছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, চলতি বছরের ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় পাহাড়পুর গ্রামের মৃত চাঁদ আলীর ছেলে নেহেদ আলী (৫৫) ও বকুল আলী (৪৬)কে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় নিহত নেহেদ আলীর ছেলে নুর ইসলাম বাদী হয়ে একই গ্রামের খোকন মন্ডল, পাপ্পু মন্ডল, তরুন মন্ডল, ভুট্টো শেখ, নাফিজ শেখ, টুটুল শেখ, সোহান মন্ডল,আমিরুল, শিশির মন্ডল, ইসতিয়াক আহম্মেদ, আলম মন্ডল, মিলন বিশ্বাস, তুহিন শেখ, শাজাহান শেখ, খাদিমূল বিশ্বাস, তুফা শেখ, বজলু মন্ডল, আলিম শেখ, মুন্তা বিশ্বাস, মজনু মন্ডল, রাসেল শেখ, নাজমূল মন্ডল, মাসুদ শেখ, জসীম শেখ, আত্তাব বিশ্বাস, গোপালপুরে গ্রামের ফারুক, টুটুল ও মুকুলসহ অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনের নামে কুমারখালী থানায় মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১,তাং-০১/০৪/২০ইং। ধারা ১৪৩/৩৪১/৩০২/১১৪/৩৪ পেনাল কোড।
এদিকে মামলার চার্জ শীটের সময় খোকন মন্ডল, পাপ্পু মন্ডল, তরুন মন্ডল, ভুট্টো শেখ,নাফিজ শেখ, টুটুল শেখ, সোহান মন্ডল, আমিরুল, শিশির মন্ডল, ইসতিয়াক আহম্মেদ, আলম মন্ডল, তুহিন শেখ, শাজাহান শেখ,তুফা শেখ,বজলু মন্ডল, আলিম শেখ, মুস্তা বিশ্বাস, মজনু মন্ডল, রাসেল শেখ, নাজমূল মন্ডল, আত্তাব বিশ্বাস, গোপালপুরে গ্রামের ফারুক, টুটুল ও মুকুলকে মূল আসামী এবং তদন্তে আব্দুর রাজ্জাক ওরফে রজব, ফিরোজ মেম্বারকে আসামী করে মোট ২৭ জনের নামে আদালতে চার্জশীট প্রদান করেছে পুলিশ।
মামলার বাদী নুর ইসলাম জানান,তার পিতার খুনের সাথে সরাসরি জড়িত মিলন, খাদেমূল, মাসুদ ও জসীমকে বাদ দিয়ে পুলিশ সাধারন মানুষের নামে চার্জশীট দিয়েছে। সে কারনে আদালতে চার্জশীটের বিপক্ষে না রাজী প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত নয় এমন ব্যক্তির নাম মামলায় চার্জশীট দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমারখালী থানার ওসি (তদন্ত) মামুনুর রশিদ জানান, দীর্ঘ তদন্ত শেষে চার্জশীট প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্নভাবে তদন্ত করা হয়েছে।
তবে মামলার এজারভূক্ত আসামীদের মধ্যে মিলন ও খাদেমূল একই স্কুলে চাকুরী করেন এমন মিথ্যা তথ্যের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেননি। কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মজিবুর রহমান জানান, যথাযথ তদন্ত করেই মামলার চার্জশীট প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া মামলার অনেক আসামী গ্রেফতার হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তিনি বলেন, অধিকতর তদন্তের জন্য বাদী পক্ষ আবেদন করতেই পারে। তবে এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই।










Like!! Really appreciate you sharing this blog post.Really thank you! Keep writing.
Comments are closed.