সোনাইমুড়ীর ভূমি অফিসে একেকটি নামজারিতে দিতে হয় ৪ হাজার টাকা ঘুষ!

540
3277

জেলা প্রতিনিধি, নোয়াখালী : নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলা ভূমি অফিসে প্রতিটি নামজারি নথিতে অফিস খরচ ৪ -১২ হাজার টাকা করে ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিমাসে অফিসে ২০ লক্ষ টাকারও বেশি টাকা ঘুষ লেনদেন হয়ে থাকে। ফলে ভূমি সংশ্লিষ্ট সেবা নিতে আসা ভূমি মালিকদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্রমতে, এই অফিসে অবৈধ লেনদেনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী প্রতারক চক্র, কর্মচারী-দালাল সিন্ডিকেট। ঘুষ দিয়েই অফিসের অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করাসহ এক দাগের জায়গার মালিককে অন্যজনকে করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এই অফিসের উর্দতন কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার, অফিস সহকারী, নাজির, জারিকারক, পিয়ন ও নৈশপ্রহরী সবাই ঘুষ বাণিজ্যের মধ্যে জড়িত।

নামজারিতে সংশ্লিষ্ট তহসিল অফিস থেকে প্রতিবেদন উপজেলা ভূমি অফিসে এলে ৪- হাজার টাকা করে প্রতি নথিতে ঘুষ দিতে হয়। খ তফসিলের নামজারি হলে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। আর নথিতে কাগজ পত্রে ত্রুটি থাকলে ঘুরতে হয় মাসের পর মাস। পরে তাদের চাহিদা মোতাবেক ঘুষ দিলেই অনিয়ম নিয়মে পরিণত হয়। আর এই অফিসের ঘুষের টাকা লেনদেন হয়ে থাকে সার্ভেয়ার আলী আহম্মেদের মাধ্যমে।

তার কাছেই জমির মালিক ও তাদের নিয়োগকৃত দালালরা টাকা দিলেই সে সংকেত দিলেই নথির কাজ শুরু হয়। আর তিনি ঘুষের টাকা না পেয়ে সংকেত না দিলে কাগজ পত্রের ত্রুটির অজুহাত দেখিয়ে জনসাধারণকে ঘুরা ঘুরি করতে থাকে।

সোনাইমুড়ী গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা ভূমি অফিসের দালাল আবদুর রহিম জানান, এই অফিসে এখানকার দলিল লেখকরাসহ কতিপয় লোকজন দালালি করে থাকে। নামজারি আবেদনকারীরা দালালের স্বরপর্ন না হলে নামজারি হয় না। অনলাইনে আবেদন করার পর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট তহসিল অফিসকে কাগজপত্র ও দখল যাচাই বাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিলেই শুরু হয় ঘুষের চড়াছড়ি।
তহসিলদারকে প্রতিবেদন দাখিলে নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিলেই তিনি প্রতিবেদন দেন। পরে উপজেলা ভূমি অফিসের ডিসিআর ফি ১১শত ৫০ টাকা পরেও ৪ হাজার টাকা প্রতি নথিতে দিতে হয়। আর না হয় কাজ হয় না।

সোনাইমুড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি ) অঙ্গজাই মারমা বলেন, তার অফিসে সরকারী ডিসিআর ফি ছাড়া নথিতে কোন বাড়তি টাকা নেয়া হয় না।

উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো সুব্রত দেওয়ান জানান, বাড়তি টাকা নামজারি নথিতে নেয়া হয় তা তিনি জানেন না।

উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আলী আহম্মেদ জানান, তিনি ইতিপূর্বে এই অফিসে যোগদান করেছেন। নামজারি নথিতে ঘুষ নেয়া হয় এমন তথ্য তার কাছে নেই।

540 COMMENTS

Comments are closed.