পর্তুগালে দুর্নীতির দায়ে আদালতে ২৩ কর্মকর্তা

40
3022

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপের ইমিগ্রেন্ট বান্ধব দেশ পর্তুগাল পৃথিবীর সকল মানুষের পছন্দের শীর্ষে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া এবং উত্তর আমেরিকার দেশ থেকে পর্তুগালে অভিবাসীদের বিচরণ বেশি।

পর্তুগালে বসবাস এবং চাকরি করার জন্য জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা অথরিটির কাছ থেকে একটি নম্বর নিতে হয় যাকে ‘সোশ্যাল নম্বর’ হিসেবে সবাই জানে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নম্বর যা চাকরি ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয়।

এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সুযোগ-সুবিধা তথা স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ এই নম্বর না থাকলে চাকরি শুরু করা যায় না। যেহেতু পর্তুগালে সবাই চাকরির আবেদনের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন অথরিটির কাছে নিয়মিত হওয়ার আবেদন করেন। এই ‘সোশ্যাল নম্বর’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এই ‘সোশ্যাল নম্বর’ পেতে হলে চাকরির চুক্তিপত্র প্রয়োজন হয় তবে কিছু অসাধু লোক জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কার্যালয়ের সঙ্গে যোগসাজশ করে অর্থাৎ পর্তুগালের জাতীয় ও সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সহায়তায় অর্থের বিনিময়ে এই নম্বর বের করেছেন প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রাদি উপস্থাপন না করে।

জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের ২৩ জন ব্যক্তি এতে দোষী সাব্যস্ত হন। তারা ৪ হাজার ৯৬৯টি ‘সোশ্যাল নম্বর’ বের করার বিষয়ে সহায়তা করেছেন এবং তা থেকে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা দুর্নীতি করেছেন। তাদের সকলকে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে বিচারের জন্য আদালতে নেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২০১৭ সালে ওই কর্মকর্তার একজনের ঘরের টয়লেট থেকে প্রায় ৫৮ লাখ টাকা, গাড়ির ভেতর থেকে ১২ লাখ টাকা জব্দ প্রশাসন। পরবর্তীকালে বিশদ তদন্তে প্রায় ২৩ জনের নাম উঠে আসে।

এসব ‘সোশ্যাল নম্বর’ এর বেশিরভাগই দক্ষিণ এশিয়ার ভারত পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের নাগরিকদের বরাবরে প্রদান করা হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাধারণত দুর্নীতির খবর খুব কম পাওয়া যায় তবে কোনোভাবে যদি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে শনাক্ত করতে পারে তাহলে খুবই কঠোর সাজা হয়। সেই কারণে অপরাধ প্রবণতা খুবই কম।

40 COMMENTS

Comments are closed.