লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও নিস্তব্ধ বইমেলা

0
141

করোনা মহামারিতে দেশে লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও সুনসান নীরবতায় চলছে বইমেলা। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টায় মেলা শুরু হলেও ক্রেতা শূন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঠ।

দুপুরের তপ্ত রোদে ক্রেতাদের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোতে থাকা বিক্রয়কর্মী, প্রকাশকরা। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণেরও একই অবস্থা। গুটি কয়েক ক্রেতা দেখা গেলেও তারা বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয়ে আড্ডা দিচ্ছেন।

এছাড়া গত রোববারের (৪ এপ্রিল) হঠাৎ ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়া স্টলগুলো এখনো মেরামত করা হচ্ছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কিছু কিছু স্টল রয়েছে বন্ধ। ভিজে যাওয়া বইগুলো মাঠে এনে শুকাচ্ছেন বিক্রয়কর্মীরা। কয়েকটি প্রকাশনীতে গিয়ে আবার দেখা যায় বিক্রয়কর্মীরা কেউ ঝিমচ্ছেন, কেউ বই গোছাচ্ছেন। বইমেলা ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র।

ডেইলি স্টার বুকসের বিক্রয়কর্মী তৌফিক মেসবাহ বলেন, ‘লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ রেখে বইমেলা চালু রাখা একদমই অযৌক্তিক। যেখানে দূর-দূরান্ত থেকে বিক্রয়কর্মীরাই আসতে পারছে না, সেখানে পাঠক আসার সুযোগ কোথায়? গতকাল সারাদিন বসে থেকে মাত্র একটা বই বিক্রি হয়েছে। আশপাশে অন্যদের তো হচ্ছেই না। এভাবে মেলা চলার থেকে না চলাই ভালো।’

প্রথমা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী সফিকুর রহমান বলেন, ‘১২টায় স্টলে এসেছি এখন পর্যন্ত দু’-একজন ক্রেতা এসেছে। বিকেল চারটার সময় কিছু ক্রেতা আসতে পারে। লকডাউন অবস্থায় বই মেলায় ক্রেতা আসবে কিভাবে? আমরা নিজেরাই পায়ে হেঁটে, রিকশায় করে অনেক কষ্টে এসেছি।’

রাজধানীর শনিরআখড়া থেকে তিন বন্ধু এসেছেন বইমেলায়। তারা জানান, ‘লকডাউনের মধ্যে মেলায় আসতে অনেক কষ্ট হয়েছে। পথে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয়েছি বার বার। একটু রিকশায়, একটু পায়ে হেটে বইমেলায় এসেছি। বইমেলা চলা অবস্থায় লকডাউনের কোনো মানেই হয় না।’

ত্রয়ী প্রকাশনীর প্রকাশক মাধব কুণ্ড বলেন, ‘লকডাউনে বই মেলা চলতেছে, আমরা এমন অবস্থায় আছি। বন্ধ ও রাখতে পারছি না, আবার খুললেও বেচা-বিক্রি হচ্ছে না। লকডাউনে মানুষ আসবেও বা কিভাবে? সবার তো পারসোনাল গাড়ি নেই। সবাই তো রিকশায় করে বইমেলায় আসতে পারবে না। ক্ষতির সম্মুখীন তো হয়েছি তবুও বইমেলার প্রতি আমাদের আবেগ রয়েছে, অনুভূতি রয়েছে তাই স্টল খোলা রেখেছি।’