অনুসন্ধান নিউজ ডেস্ক : সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে অবজ্ঞা করে নতুন কৌশলে চলছে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে মা-ইলিশ নিধন। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং আইনের সব জটিলতা এড়াতে এবার প্রাপ্ত বয়স্কদের পরিবর্তে ইলিশ ধরার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার সময় হাতেনাতে এসব শিশুদের আটক করতে গিয়েও নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে।
মূলত দরিদ্রতা এবং বড়দের প্ররোচনার ফলে এমন অপরাধ করতে বাধ্য হচ্ছে জেলে পল্লীর শিশুরা। তবে সেক্ষেত্রে এসব অপকৌশল গ্রহণকারী সব অভিভাবকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় জেলা প্রশাসক।
এদিকে সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই উপজেলার মাঝের চরের মেঘনা নদীতে অবাধে ইলিশ ধরে যাচ্ছে শিশু সহোদর। পরে আইন শৃঙ্খলারক্ষক বাহিনী ইলিশসহ দুই ভাইকে হাতেনাতে আটক করলেও বয়সের কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে অভিযানের প্রথম পাঁচ দিনে নদী থেকে যাদের আটক করা হয়েছে তাদের প্রায় অর্ধেকের বেশি শিশু। যাদের নামমাত্র জরিমানা এবং মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মূলত বড় ধরণের জেল এবং জরিমানা মুক্ত থেকে ইলিশ শিকারের জন্য শিশুদের এমন কৌশলে ব্যবহার করছেন অভিভাবকরা। প্রাপ্ত বয়স্ক জেলেরা নদীতে জাল ফেলার পর তাদের গ্রেফতার এড়াতে শিশুদের নৌকায় রেখে তারা তীরে চলে যায়। পরে সেই শিশুদের সহায়তায় নির্দিষ্ট সময় পর মাছসহ জাল তুলে নেওয়া হয়।
নিষেধাজ্ঞার মধ্যে নদীতে ইলিশ মাছ শিকারে শিশুদের ব্যাবহারের ফলে অভিযান পরিচালনা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে উল্লেখ করে ভোলা সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এরপরও অভিযান সফল করতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি আমরা সফল হব। এই ছোট ছোট বাচ্চারা ঝুঁকিপূর্ণ পেশা এবং নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে নিজেদের বিরত রাখবে বলে আমরা আশা রাখছি।’
সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইলিশ না ধরার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও ব্যাপক মাত্রায় প্রচার-প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি শিশুদের দিয়ে এমন অপকৌশল গ্রহণকারী অভিভাবকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক।
উল্লেখ্য, নিষেধাজ্ঞার প্রথম ৫দিনে অভিযান পরিচালনা করে প্রায় লক্ষাধিক মিটার জালসহ অন্তত ৭০জন ইলিশ শিকারিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আর যার মধ্যে কমপক্ষে ২৯ জন শিশু।









