পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (ছবি : নিউজ ১৮)
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের আসাম রাজ্যে জাতীয় নাগরিকপঞ্জির ভয়ে মানুষ তাদের মর্যাদা হারাচ্ছেন উল্লেখ করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ‘এই পঞ্জির অনেক ক্ষেত্রে স্ত্রী, ছেলে, মেয়ের নাম থাকলেও নেই স্বামীর নাম। ফলে স্বামী ভাবছেন কেউ আর তাকে বাবা বলে ডাকবে না। স্বামী বলে সম্মান করবে না। আত্মমর্যাদা হারিয়ে আসামের মানুষ তাই আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।’ খবর আনন্দবাজার।
এ বিষয়ে আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলায় আয়োজিত এক জনসভায় এমন মন্তব্য করেন মমতা।
সে সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা আরও বলেন, ‘বাংলাকে কখনোই আসাম হতে দেব না। এই জাতীয় নাগরিকপঞ্জির জন্য আসামের ৪০ লাখের বেশি মানুষের নাম বাদ হয়ে গেছে। আসামে বাঙালি খেদাও, গুজরাটে বিহারি খেদাও বর্তমানে এই তো চলছে। তবে এটা খুব স্পষ্ট করে জেনে রাখুন, অসহায়দের পাশে আর কেউ না থাকলেও বাংলা সবসময় থাকবে।’
মোদী সরকারের প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যাদের তারা তাড়িয়ে দেবে, বাংলা তাদের আশ্রয় দেবে। বাংলার মাটিতে মাথা উঁচু করে আত্মমর্যাদা নিয়ে সবাই থাকতে পারবে। মারামারি, রক্তারক্তি করে মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে বেঁচে থাকা যায় না। সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে হয়।’
গুজরাট প্রসঙ্গে মমতা আরও উল্লেখ করেন, ‘বর্তমানে গুজরাটে বিহারিদের তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব বাংলার মাটিতে চলতে দেব না। তারা যাকেই তাড়াবে, তাকেই আশ্রয় দেবে বাংলা। মাথা উঁচু করে মর্যাদা নিয়ে বাংলায় এসে সবাই বসবাস করতে পারবে।’
উল্লেখ্য, ভারতে কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে নাগরিকপঞ্জি কার্যক্রম শুরু করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। আর এই নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ পড়েছে আসামের প্রায় ৪০ লাখের বেশি জনগণ।
যদিও এ বিষয়ে শুরু থেকেই প্রতিবাদ করে আসছিলেন মমতা। তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গে এই নাগরিকপঞ্জি করতে দেওয়া হবে না বলেও বারংবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের এ মুখ্যমন্ত্রী।








