সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম (ফাইল ছবি)
নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের এমপি ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। অনেকদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছেন তিনি। বর্তমানে মেয়েসহ পরিবারের কাউকেই চিনতে পারছেন না। তার গুরুতর অসুস্থতার কারণে রাজনীতি নয়, চিকিৎসার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে পরিবার।
রবিবার (৪ নভেম্বর) বিকালে কিশোরগঞ্জে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব জানান সৈয়দ আশরাফের ছোট ভাই অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ শাফায়াতুল ইসলাম।
জেল হত্যা দিবসের আলোচনায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ শাফায়াতুল ইসলাম বলেন, ‘ভাইয়ের এমন পরিস্থিতিতে তার রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। আমরা এখন রাজনীতি নয়, তার চিকিৎসার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। তাছাড়া ভাইয়ের অসুস্থতা নিয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার ও স্বার্থসিদ্ধির চক্রান্তও হচ্ছে।’
এ সময় সৈয়দ আশরাফের ছোট ভাই শাফায়াত মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ করে বড় ভাইকে নিয়ে অহেতুক গুজব না ছড়াতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান। একইসঙ্গে সৈয়দ আশরাফের সুস্থতার জন্য দোয়া করতে সবার প্রতি অনুরোধ করেছেন তিনি।
সৈয়দ আশরাফ একজনই, তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী উল্লেখ করে সৈয়দ শাফায়াত বলেন, ‘একদিন বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা হবে তখন তিনি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে (তাদের বাবা) ছাড়িয়ে যাবেন। তিনি হবেন ইতিহাসের মহানায়ক।’
অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ শাফায়াতুল এ সময় তার বক্তব্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক তার বাবা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সঙ্গে অক্টোবরের চতুর্থ সপ্তাহে শেষ দেখা করার কথোপকথন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সে দিন তিনি (সৈয়দ নজরুল ইসলাম) স্পষ্ট ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন যে ঘাতকরা তাকে বাঁচতে দেবে না, মেরে ফেলবে।’
সভায় সভাপতিত্ব করেন শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. রুহুল আমিন খান। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহজাহান, কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সুলতানা রাজিয়া, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরীফ সাদী, জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক এনায়েত করিম অমি ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বিলকিস বেগম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জননন্দিত রাজনীতিবিদ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অবস্থা অনেকদিন ধরেই ভালো নয়। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তবে তার শারীরিক অবস্থা কতটা খারাপ এ নিয়ে কারও স্পষ্ট ধারণা ছিল না। সৈয়দ আশরাফুল রাজনীতিতে থাকছেন না এবং আগামী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না- এমন ধারণা করছিলেন সবাই। এমনকি সৈয়দ আশরাফুলের ভাইদের মধ্যে কেউ একজন এই আসনে ভোট করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সৈয়দ আশরাফুর ইসলামের ছোট ভাই মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়াতুল ইসলাম দেশে গিয়ে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। এছাড়া তার অপর দুই ভাই ড. সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম ও ড. সৈয়দ শরীফুল ইসলাম কিছুদিন আগে কিশোরগঞ্জে গিয়ে ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন।








