বাম গণতান্ত্রিক জোটের সঙ্গে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সংলাপ (ছবি ; সংগৃহীত)
নিজস্ব প্রতিবেদক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনে যাওয়ার মতো হুমকি দিল আট দলীয় বাম গণতান্ত্রিক জোট। নির্বাচনে অংশগ্রহণে প্রস্তুত তবে দাবি না মানলে প্রয়োজনে নির্বাচন বয়কট করে আন্দোলনের জন্যও প্রস্তুত তারা বলেও সরকারকে হুঁশিয়ার করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।
মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারি জোটের সঙ্গে রাত সাড়ে ৭টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় ৩ ঘণ্টা অনুষ্ঠিত সংলাপের পর আট দলীয় বাম গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষে এমন কথা জানান বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
সংলাপে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুর্নগঠন, ইভিএম ব্যবহার না করা, মিথ্যা-গায়েবি মামলা ও বিরোধী জোটের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধসহ জোটের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আমরা আমাদের বক্তব্য সুস্পষ্টভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছি। এখন বল তার কোর্টে। তিনি এগুলো বিবেচনা করে কি সিদ্ধান্ত নেন তার ওপর নির্ভর করছে আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কি হবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত আছি। পরিস্থিতি অনুকূল না হলে সেটা বয়কট করার জন্যও প্রস্তুত আছি।’ সিপিবি সভাপতি বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করে থাকবো প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা কতটুকু বিবেচনায় নিয়েছেন।’
এদিকে সাইফুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পরে তিনি কিভাবে দেখছেন তার ওপর নির্ভর করে আমরা আমাদের আন্দোলনে করণীয় ও রাজনৈতিক করণীয় নির্ধারণ করবো।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন করতে চাই, নির্বাচনের জন্য গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করার জন্য সংলাপ করছি, রাজপথে ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করছি।’
বাম জোট সমন্বয়ক বলেন, ‘আমরা এখনও আশা করতে চাই, যে শেষ মুহূর্তে হলেও সরকারের সদিচ্ছা জাগ্রত হবে। এবং তারা উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবি-দাওয়া লিখিতভাবে জানিয়েছি। আশা করি, সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেবে।’
সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন-সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশীদ ফিরোজ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য আকবর খান, বাসদের (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটি সদস্য শুভ্রাংশু চক্রবর্তী ও আলমগীর হোসেন দুলাল, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, আব্দুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য মোমিনুর রহমান বিশাল, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রনজিৎ কুমার সংলাপে উপস্থিত ছিলেন।
সংলাপ শেষে ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্য
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা শুনেছি। আমাদের নেত্রী মুগ্ধ মনোযোগে সবার বক্তব্য শুনেছে। আট দলীয় জোটের অলমোস্ট সব পার্টি তারা বক্তব্য রেখেছেন এবং তাদের ভিন্নমতের কথাও তারা স্পষ্ট করে উচ্চারণ করেছেন। সেজন্য আমাদের নেত্রী তাদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।’
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মত ও পথের অনেক গড়মিল আছে আবার চেতনায় আমরা মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ বঙ্গবন্ধুর অবিসাংবাদিত নেতৃত্ব জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে, এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে মিল আছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন কিছু কিছু বিষয়ে তাদের ভিন্নমতও আছে। আর তারা এটাও মনে করছেন যে সাংবিধানিকভাবে, সংবিধান সম্মতভাবে নির্বাচন সম্ভব। আর সংবিধানের ভেতরে থেকেও আরও কিছু সমস্যা আছে যেগুলো সমাধান করা সম্ভব।’








