কাদেরের বাড়ি নেই : ফখরুলের গাড়ি নেই

0
406

ছবি : সম্পাদিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের রাজধানীতে কোনো বাড়ি বা ফ্ল্যাট নেই। থাকেন স্ত্রীর বাড়িতে। অপরদিকে, বিএনপির মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের নিজস্ব কোনো গাড়ি নেই। স্ত্রীর দেয়া গাড়ি ব্যবহার করেন তিনি।
রাজনীতির দুই মেরুর দুইজনই স্ত্রীর দ্বারস্থ। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ওবায়দুল কাদের নোয়াখালী-৫ এবং মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচন করছেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জমা দেয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ওবায়দুল কাদের স্ত্রীর বাসভবনে থাকেন। এ ছাড়া তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উপহার হিসেবে পাওয়া। নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ তথ্য দিয়েছেন।
স্থাবর সম্পত্তিতে উত্তরায় ৫০ লাখ ৭৯ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি এবং পৈতৃক সম্পত্তি হিসেবে ৬০ শতাংশ অকৃষি জমি রয়েছে।
ওবায়দুল কাদেরের নিজস্ব কোনো বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট নেই। তার স্ত্রীর ১৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের এক হাজার ৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে বলে হলফনামায় জানিয়েছেন। তার বার্ষিক আয়ের উৎস হিসেবে দেখিয়েছেন বাড়ি ও দোকান ভাড়া থেকে আয় করেন বার্ষিক ১৩ লাখ ৬৮ হাজার, চাকরি ও লেখালেখি থেকে আয় ১২ লাখ ৬০ হাজার, বই লিখে আয় ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৬৫১ টাকা। সব মিলিয়ে আয় ৩১ লাখ ১৭ হাজার ৬৫১ টাকা।

তার স্ত্রীর বাড়ি ও দোকান ভাড়া বার্ষিক ২ লাখ ৬৬ হাজার ৪৩৬, ব্যবসা থেকে তিন লাখ ৯৩ হাজার ২৬০ ও অন্যান্য খাত থেকে ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৫১৯ টাকা আয় করেন বলে হলফনামায় বলা হয়েছে।
এ ছাড়া তার নিজের নগদ আছে ৫৫ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৮৩ লাখ ৫৮ হাজার ৭৪২ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ১ কোটি ২৪ লাখ ২১ হাজার ২৭৮ টাকা। ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন কাদের। উপহার হিসেবে প্রাপ্ত একটি মোবাইল ফোন রয়েছে। এক লাখ ৫০ হাজার টাকার ২৫ তোলা স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। এ ছাড়া নিজের নামে আট লাখ ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র আছে।
এ মুহূর্তে ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রীর হাতে আছে নগদ ৫০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা অর্থের পরিমাণ ২৬ লাখ ৩৪ হাজার ৬১১ টাকা। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৫৫ লাখ ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা এবং এক লাখ টাকা মূল্যের ২০ তোলা স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। এ ছাড়া তার ১২ হাজার টাকা দামের ফোন এবং এক লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে।

এদিকে, মির্জা ফখরুলের বার্ষিক আয় ১১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩৩ টাকা। এর মধ্যে কৃষি খাত থেকে আসে ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা। বাড়ি ও দোকান ভাড়া বাবদ ফখরুলের কোনো আয় না থাকলেও এ খাতে তার স্ত্রী বছরে আয় করেন ৪ লাখ ২৬ হাজার ৯৮৮ টাকা। বিএনপি মহাসচিব ব্যবসা থেকে আয় করেন ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৭৪; শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত ১ লাখ ৪১ হাজার ১৮১, তার স্ত্রীর শেয়ার থেকে ৮৪ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে বছরে আয় করেন ২০ লাখ টাকা।
পেশা থেকে বছরে আয় করেন ৬ লাখ টাকা। চাকরি করে বছরে সম্মানীভাতা পান ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর চাকরি থেকে বছরে আয় করেন ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৫৪০ টাকা। মির্জা ফখরুল বছরে ব্যাংক সুদ পান ২ হাজার ৮০৫ টাকা। তার স্ত্রীর ব্যাংক সুদ থেকে ২৬ হাজার ৯০৭ টাকা এবং ডিপিএস থেকে পান ১১ লাখ ১৯ হাজার ৩৮৮ টাকা।

এ ছাড়া মির্জা ফখরুলের নগদ টাকা আছে ৪২ লাখ ৭১ হাজার ৪৪৫ টাকা। তার স্ত্রীর আছে ৫ হাজার ৩১২ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৮১ টাকা। তার স্ত্রীর জমা ২১ লাখ ৭২ হাজার ৮৭০ টাকা। দ্য মিজার্স প্রা. লিমিটেডে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া তার শেয়ার আছে ৬৫৮টি। স্ত্রীর নামে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র আছে। স্ত্রীর কাছ থেকে প্রাপ্ত একটি প্রাইভেট কার আছে। তার স্ত্রীর ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ১৪০ টাকার একটি গাড়ি আছে। আছে ১০ ভরি সোনা, যা বিয়ের সময় দান হিসেবে পেয়েছেন। স্ত্রীর ২ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে।
মির্জা ফখরুলের ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি টিভি, দুটি ফ্রিজ, একটি এসি, দুটি ডেকসেট আছে। তার স্ত্রীর ১ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী আছে। এ ছাড়া এক লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের খাট, সোফা সেট ও ডাইনিং টেবিল আছে ফখরুলের। তার স্ত্রীর এক লাখ টাকার আসবাবপত্র আছে।

মির্জা ফখরুলের অর্জনকালীন মূল্যের ৬০ হাজার টাকার ৫ একর কৃষি এবং ৫ লাখ টাকার ৪ শতক অকৃষি জমি আছে। তার স্ত্রীর আছে অর্জনকালীন মূল্যের ৫০ হাজার টাকার কৃষি এবং ৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকার ৫ কাঠা অকৃষি জমি। অর্জনকালীন ১০ লাখ টাকার দোতলা বাসার একাংশ আছে মির্জা ফখরুলের। নিজের কোনো অ্যাপার্টমেন্ট না থাকলেও তার স্ত্রীর ২০ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট আছে। দোকানের অগ্রিম বাবদ তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা দেনা তার।