বেগম খালেদা জিয়া (ফাইল ফটো)
নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার প্রার্থিতা বিষয়ে রিট হাইকোর্টের তৃতীয় বেঞ্চে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ ডিসেম্বর) আদালতের তৃতীয় বেঞ্চের বিচারপতি জে বি এম হাসান এ আদেশ দেন।
এর আগে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতকে জানান, এই আদালতের ওপর অনাস্থার আবেদনপত্রটি অ্যাফিডেভিট করা সম্ভব হয়নি। তাই অ্যাফিডেভিট করতে আদালতে তারা সময় প্রার্থনা করেন। পরে মঙ্গলবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করা হয়।
হাইকোর্ট গত ৯ ডিসেম্বর তিন আসনে খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা বাতিলে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিটটি দায়ের করা হয়।
এ দিন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন। রিটে তাকে নির্বাচনের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর) তিন আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রার্থিতা ফেরতে তার করা পৃথক তিনটি রিট নিষ্পত্তির শুনানিতে হাইকোর্টের দেওয়া পৃথক আদেশের পর বুধবার বিকালে তৃতীয় বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) শুনানির দিন নির্ধারণ করেছিলেন।
মঙ্গলবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র ফিরে পেতে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা রিটের বিভক্ত আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ।
বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও মো. ইকবাল কবিরের দ্বৈত বেঞ্চ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ভোটের ব্যাপারে এ বিভক্ত আদেশ আসে। পরে হাইকোর্টের দেওয়া দ্বৈত আদেশ বিস্তারিত লেখার জন্য নথি ফেরত পাঠানো হয়। দুপুরে বিস্তারিত লিখে আদেশ জমা দেওয়ার পর প্রধান বিচারপতি বিকালে নতুন করে এ বিষয়ে শুনানির জন্য বেঞ্চ গঠন করে দেন।
এর মধ্যে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন যে রায় দিয়েছিল, তা স্থগিত ঘোষণা করেন এবং কেন এই আদেশ অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সেই মর্মে রুল জারি করেন। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে তাকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার আদেশ আসে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতির কাছে থেকে।
জ্যেষ্ঠ বিচারপতির আদেশের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন বেঞ্চের অপর বিচারপতি মো. ইকবাল কবির। তিনি খালেদা জিয়ার আদেশ খারিজ করে দেওয়ার মত দেন।
এর ফলে খালেদা জিয়া ভোটে ফিরতে পারবেন কি না, তা আপাতত অমীমাংসিতই রয়ে যায়। নিয়ম অনুসারে, বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যায়। প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে শুনানির জন্য তৃতীয় একটি বেঞ্চ গঠন করে দেন। সেই বেঞ্চই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত আদেশ দেবেন।
খালেদা জিয়ার পক্ষে ফেনী-১, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়া হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তারা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন। এরপর গত ৫ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবীরা রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল আবেদন করেন। গত শনিবার শুনানির সময় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তারা তিনটি আসনেই খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেন।
এর পরই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভোটের লড়াইয়ে ফিরতে শেষ আশ্রয়স্থল হাইকোর্টে আসেন। গত রবিবার বিকালে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। দ্বৈত আদেশের এ রায়ের কপি মোট দুই পৃষ্ঠা।
উল্লেখ্য, গত ৯ ডিসেম্বর ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে সারা দেশে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হয়েছে। আর ভোট গ্রহণ হবে ৩০ ডিসেম্বর।









