প্রাচীরের অভাবে ভিয়েতনাম যুদ্ধের চেয়েও বেশি ক্ষতি হবে (ভিডিও) । জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

0
339

জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। (ছবিসূত্র : সিএনএন)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ‘শাট ডাউন’ সংকট অবস্থার মধ্যেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৯ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিস থেকে টেলিভিশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন তিনি। হোয়াইট হাউজ কর্তৃপক্ষের বরাতে এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

মাত্র ১৮ মিনিটের সেই ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে গত ১৮ দিন যাবত চলা আংশিক শাট ডাউন বা সরকারি কার্যক্রমে অচলাবস্থার পেছনে কেবল মাত্র একটি কারণ রয়েছে। আর তা হলো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের তহবিলে ডেমোক্র্যাটদের অনুমোদন না দেওয়া।’

যদিও ট্রাম্পের এমন দাবিকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করেছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে ট্রাম্পের দাবিকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেনি দেশটির বিরোধীরা। যেখানে এই দেয়াল নির্মাণে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থ না দেওয়া পর্যন্ত ট্রাম্প কোনো বাজেট প্রস্তাবে স্বাক্ষর করবেন না সাফ জানিয়েছেন।

অপরদিকে ডেমোক্র্যাটরা জানিয়েছে, তারা ১৩০ কোটি ডলারের চেয়ে এক পয়সাও বেশি দিতে সম্মত হবেন না।

ট্রাম্প তার ভাষণে আরও বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটদের অনুরোধে, এটি কংক্রিটের পরিবর্তে সেখানে একটি ইস্পাতের প্রাচীর নির্মাণ করা হবে।’ তবে বিরোধীদের পক্ষ থেকে কখনোই এমন কোনো প্রস্তাব আসেনি বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

১৯৫৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত চলা ভিয়েতনাম যুদ্ধে অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে প্রায় ৫৮ হাজারের বেশি মার্কিন নাগরিক প্রাণ হারান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘প্রতিদিনই আমাদের প্রায় ৩০০ জন নাগরিক হেরোইনে আসক্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। এখনই সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণ না করা হলে এ বছরই ভিয়েতনাম যুদ্ধের চেয়ে আরও বেশি মানুষ প্রাণ হারাবে।’

এই সীমান্ত সংকট বর্তমানে মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, এ সময় মেক্সিকো সীমান্তে আবারও ৫০০ কোটি ডলার অর্থায়ন করা উচিৎ।’

উল্লেখ্য, এ সময় অভিবাসন সংকট নিরসনে মেক্সিকো সীমান্তে এখনই দীর্ঘ প্রাচীর নির্মাণের পক্ষে নিজের যুক্তি ও মত তুলে ধরেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আর এ তহবিলে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন পেতে বিরোধীদের ওপর চাপ প্রয়োগে ক্যাপিটাল হিলের রিপাবলিকান সিনেটরদের নিয়ে বুধবার বৈঠক করার কথা রয়েছে তার।

এ দিকে হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে যেতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ সময় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত ও মানবিক সংকট নিরসনে সীমান্তে কর্মরত রক্ষী ও সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন তিনি।