প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বামে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল ডানে (ছবি : সম্পাদিত)
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চা চক্র শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি)। গণভবনে বিকাল সাড়ে ৩টায় এই আয়োজনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংলাপে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এই চা চক্রে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সরকার বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকেও। তবে সংলাপে অংশ নেওয়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন এই জোট এবার অংশ নিচ্ছে না প্রধানমন্ত্রীর চা চক্রের আমন্ত্রণে।
শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর বাস ভবনে পাঠানো এক চিঠির মাধ্যমে চা চক্রে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় ঐক্যফ্রন্ট। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধিদলের কাছ থেকে এ চিঠি গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-২ মো. খোরশেদ আলম।
ঐক্যফ্রন্টের প্যাডে লেখা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলা হয়, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চা-চক্রের আমন্ত্রণ অন্যতম এজেন্ডা হিসেবে আলোচিত হয়েছে। কমিটি এই চা-চক্রে অংশ না নেয়ার ব্যাপারে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের নামে প্রহসনের মাধ্যমে গঠিত সরকার কোনোভাবেই নৈতিক নয়। সেদিন দেশের মানুষের ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকার ভোটাধিকার প্রয়োগ করে প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষমতা হরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হাজার হাজার নেতাকর্মী এখনও জেলে আছেন। নতুন নতুন মামলায় অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এমন অবস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চা-চক্রে অংশগ্রহণ করা কোনোক্রমেই সম্ভব নয়।’
নির্বাচনের আগে গত নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টসহ দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সংলাপ হয়। ওই সংলাপে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়। পরে ৩০ ডিসেম্বর সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় পায়।
এদিকে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করে পুনর্নির্বাচনের দাবি করে আসছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
এরই মধ্যে ঐক্যফ্রন্টসহ নির্বাচনের আগে সংলাপে অংশ নেয়া সব নেতাকে শুভেচ্ছা বিনিময় ও চা-চক্রের জন্য আমন্ত্রণ জানান শেখ হাসিনা।
সংলাপে অংশ নেয়া ঐক্যফ্রন্টের নেতারা ২৬ জানুয়ারি আমন্ত্রণ পাওয়ার পর থেকেই চা-চক্রে যাবেন না বলে জানিয়ে আসছেন।
বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর চা-চক্রকে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করে বিএনপি মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী ও ভুক্তভোগীদের নিয়ে গণশুনানি হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে জালিয়াতির পর প্রধানমন্ত্রী চা-চক্রের আমন্ত্রণ প্রহসন ছাড়া কিছুই নয়। তাই সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।
অন্যদিকে শুক্রবার আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঐক্যফ্রন্টের চা চক্র বর্জনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ‘এটাই তাদের নেতিবাচক রাজনীতির ধারা।’









