রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি (ছবি : সম্পাদিত)
নিজস্ব প্রতিবেদক : রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত ও হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।
বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং। এছাড়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমিনের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির। এসব বৈঠকে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে আলোচনা হবে।
ইউএনএইচসিআরের এক কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে তিন দিনের সফরে সোমবার সকালে ঢাকায় আসেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ঢাকায় পৌঁছানোর পরপরই তিনি কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান।
প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আসা জোলি সোমবার ও মঙ্গলবার উখিয়া ও কুতুপালংসহ চারটি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের এই দূত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা করেন। এছাড়া রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় শুধু বাংলাদেশ নয় উদ্যোগ নিতে হবে মিয়ানমার আর বিশ্ব সম্প্রদায়কেও বলে জানান তিনি।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ এক বছরের ও বেশি সময় ধরে রাখাইন রাজ্য থেকে বিতারিত হয়ে প্রায় ৭ লাখের ও বেশি রোহিঙ্গারা শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এদেরকে বাধ্য করা হয়েছে নিজ দেশ থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার জন্য। আজ দেড় বছর পরও উদ্বাস্তুরা বাংলাদেশে আসছে।
তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারে সঠিক কত সংখ্যক রোহিঙ্গাদের হত্যা করা হয়েছে, এই বিষয়ে জানা যায় নি। তবে রিপোর্টে বার বার উঠে এসেছে মিয়ানমারের সহিংসতায় নারী ও শিশুসহ হাজার হাজার রোহিঙ্গা মারা গেছে।
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা দলে দলে কক্সবাজারে পালিয়ে আসে। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফ ও রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে অবস্থান করছে। রোহিঙ্গারা দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করার পরপরই জোলি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে তার সফরসূচি চূড়ান্ত হতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।
অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ২০১২ সালে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার বিশেষ দূত নিযুক্ত হন। এরপর থেকেই তিনি দেশে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে সোচ্চার।









