বৈশাখী উৎস‌বে বেরসিক বৃ‌ষ্টির হানা

0
2304

আবহমান বাংলার সংস্কৃ‌তির সবচে বড় মাইলফলক প‌হেলা বৈশাখ নগরবাসী‌কে প্রাণে প্রাণ মেলাবার সুযোগ করে দেয়। আর সেই সু‌যো‌গে শ‌নিবার (১৪ এ‌প্রিল) বি‌কে‌লে রাজধানীর চ‌ন্দ্রিমা উদ্যান এবং মা‌নিক মিয়া এ‌ভি‌নিউ ছিল উৎসবমুখর। ত‌বে বি‌কে‌লে বৈশা‌খের প্রথম বেরসিক বৃ‌ষ্টি‌তে সেই উৎস‌বে কিছুটা ভাটা প‌ড়েছে। এক কথায় যাকে বলে ‘হরিষে বিষাদ’।

উৎসবমু‌খর মুখগু‌লো মুহূর্তে গোমড়া হ‌য়ে যায়। অ‌নে‌কে ছো‌টোছু‌টি ক‌রে গা‌ছের নিচ কেউবা দৌ‌ড়ে গি‌য়ে গাড়ি‌তে উঠ‌ছে। বৈশা‌খের বি‌কে‌লে প্রিয়জন‌কে নি‌য়ে স‌বেমাত্র মধুর আলাপনে সময় কাটা‌তে শুরু ক‌রে‌ছে এমন সময় বেরসিক বৃ‌ষ্টির হানা। বলা যায় বড়ই আনরোমান্টিক বৃষ্টি!

প‌হেলা বৈশা‌খে ঝড়-বৃ‌ষ্টিও যেন বাঙালি সংস্কৃ‌তির অংশ, সেটার জানান দেয় বি‌কে‌লের বৃ‌ষ্টি। মা‌নিক মিয়া এভি‌নিউতে এম‌নি‌তেই ছু‌টির দিনে মানু‌ষের ভিড় জ‌মে ও‌ঠে। তার উপর য‌দি বৈশা‌খের মতো বাঙা‌লি উৎস‌বের দিন হয় তাহ‌লে তো কথাই নেই।

বাঙা‌লির ঐ‌তিহ্যবাহী পোশাক শা‌ড়ি আর পাঞ্জা‌বি‌তে পু‌রো এলাকা যেন র‌ঙিন হ‌য়ে উ‌ঠে‌ছিল। নারীর পরণে বাহা‌রি বৈশাখী শা‌ড়ি আর মাথায় ফু‌লসাজ, পুরুষদেরও বৈশাখী সাজের কমতি নেই। নানা রঙের পাঞ্জা‌বির স‌ঙ্গে মি‌লি‌য়ে পাজামা এবং স্লিপার।

হঠাৎ বৃ‌ষ্টি‌তে উৎসবের সব আনন্দ নিমেষে বিষাদে প‌রিণত হয়। তারপ‌রেও অ‌পেক্ষায় য‌দি বৃ‌ষ্টি স‌রে গি‌য়ে আকাশ প‌রিষ্কার হয়, তাহ‌লে আবারও সেই উৎসব চল‌বে। আর এই উৎসব শেষ হ‌বে রাত অব‌ধি।