বর্তমানে কেমন দেখতে সেই ‘কারবালা’?

    0
    371

    ফিচার ডেস্ক: ধর্মীয় দিক থেকে আশুরার দিনের তাৎপর্য রয়েছে অনেক। এই দিনে ঘটা ঘটনাগুলোর মধ্যে কারবালার ইতিহাস বেশ আলোচিত ও চর্চিত। প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হুসাইন (রা.) পরিবার-পরিজন ও সঙ্গী-সাথীসহ মোট ৭২ জন শহিদ হন এই কারাবালা প্রান্তরে। সেই হৃদয়বিদারক ঘটনা আজও হৃদয়কে শোকাবিদ্ধ ও বেদনার্ত করে তোলে।

    যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইরাকের মধ্যবর্তী একটি শহর কারবালা। রাজধানী বাগদাদ থেকে ১০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এর অবস্থান। বাগদাদ থেকে ট্রেনে চড়ে কারবালা যাওয়া যায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ মিটার উঁচুতে কারবালার অবস্থান। সর্বশেষ ২০১৫ সালের পরিসংখ্যার অনুযায়ী বর্তমানে কারবালা প্রদেশে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ৭০ লাখ।

    ইমাম হুসাইন (রা.) ও আব্বাস ইবনে আলীর কবর রয়েছে এই কারবালা শহরে। প্রাচীনকালে এ শহরের নাম ছিল, কোর-বাবিল। কারণ, প্রাচীন ব্যাবিলনীয় কিছু গ্রামের সমষ্টিগত নাম ছিল এটি। প্রসঙ্গক্রমে আল্লাহ্‌ তাতালা পবিত্র কুরআনে এই শহরটির নাম উল্লেখ করেছিলেন।

    কিছু ঐতিহাসিক বিশেষজ্ঞের মতে, কারবালা নামটি এসেছে আরবি ‘কারব’ (অর্থাৎ বিপদ-যন্ত্রণা) ও ‘বালা’ (অর্থাৎ বিয়োগান্ত-দুর্বিপাক) শব্দ থেকে এসেছে। কারণ, এখানকার জমিনে ৬১ হিজরিতে ইমাম হুসাইন (রা.)-এর শাহাদাতের মর্মন্তুদ ও শোকাবিদ্ধ ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল।

    মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাকে গত কয়েক বছরে যুদ্ধ প্রভাব ফেললেও, কারবালাতে এর প্রভাব কিছুটা কম পড়েছে বলা যায়। আর তাই অন্যান্য শহরের তুলনায় এটি বেশ সাজানো গোছানো আর পরিপাটি। অবশ্য কারবালার লোকজনও বেশ সচেতন। তারা যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলেন না। পাশাপাশি, শহরকে দৃষ্টিনন্দন ও মনোমুগ্ধকর করে রাখতে তারা যথেষ্ট সতর্ক থাকে।

    বিভিন্ন দেশ ও শহর থেকে পর্যটকরা ইমাম হুসাইন (রা.)-এর কবর জিয়ারত করতে এখানে আসে। তাদের জন্য পথে ঘাটে পানীয়র ব্যবস্থা করা রয়েছে। অর্থস্বল্প লোকদের বিনা মূল্যে কারবালায় যাতায়াতের জন্য রয়েছে মিনিবাস, অটোগাড়িসহ অন্যান্য যানবাহন। কারবালার জনপ্রিয় যানবাহন হলো গাধার গাড়ি। রাস্তায় উটেরও দেখা মেলে।

    দিনের আলো নিভলে কারবালার সৌন্দর্য বেড়ে যায় অনেকখানি। তখন সেখানকার মসজিদগুলোর পার্শ্ববর্তী ফুলবাগানগুলোয় জ্বলে ওঠে আলোকবর্তিকা। বিভিন্ন রঙের আলোর পসরা উজ্জ্বলতা ছড়ায় চারপাশে। আর তাতে মসজিদের আঙ্গিনা হয়ে ওঠে নয়নাভিরাম।

    কারবালা শহরে বসন্তকাল দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় বছরের অনেকটা সময়ই শহরটি ফুলে ফুলে সুরভিত ও সুশোভিত হয়ে থাকে। অন্যদিকে শহরের বাইরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে রয়েছে সারি সারি খেজুরের বাগান। এসব বাগানে উৎপন্ন হওয়া খেজুর রপ্তানি করা হয় মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে। কিছু স্থানে বালুর ঢিবিও রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে কারবালার প্রাকৃতিক দৃশ্য বেশ মনোরম।

    এই শহরটিতে রয়েছে ইমাম হুসাইন (রা.) এর কবর, তিল্লে জায়নাবিয়া, হজরত আব্বাস ইবনে আলীর কবর, বিখ্যাত ফুরাত নদী ইত্যাদি কারবালার রূপ। এছাড়াও ভাস্কর্য, পার্ক, শপিং মল, রেস্তোরাঁ এবং সৌরভামোদিত বৈচিত্র্যময় ও বাহারি ফুলের বাগানগুলো কারবালাকে বেশ মনোহরী করে তুলেছে।

    আপনি যদি ভ্রমণপিপাসু হয়ে থাকেন তবে ঘুরে আসতে পারেন ঐতিহাসিক কারবালা প্রান্তর।