‘লকডাউনে’ প্রাণ ফিরে পেল ঢাকার বায়ু

119
27098

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুইজারল্যান্ডভিত্তিক সংস্থা এয়ার ভিজ্যুয়ালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিশ্বে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান এখন ২৩ নম্বরে। এর আগে ২১ মার্চও ঢাকা বায়ুদূষণের শীর্ষে ছিল।

করোনাভাইরাসের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির কারণে রাজধানী শহরের বায়ুর মানের এমন উন্নতি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, করোনা আতঙ্কে যান চলাচল ও নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। বেশির ভাগ শিল্পকারখানায় চলছে ছুটি। এ কারণেই বাতাসের দূষণ অনেক কমে গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের অধ্যাপক ও বায়ুদূষণ গবেষক ড. আবদুস সালাম বলেন, সাধারণ ছুটি থাকায় শিল্পকারখানা, নির্মাণ কাজ ও যানবাহন কম চলায় বাতাসের এমন উন্নতি। ঢাকার বাতাসের দূষণের প্রধান কারণ চারটি।

এগুলো হচ্ছে- যানবাহন, বিভিন্ন ধরনের নির্মাণ কাজ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং ইটভাটা। চলমান সাধারণ ছুটিতে ঢাকায় সাধারণ জীবনযাত্রা নেই বললেই চলে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বায়ুর মানে। ঢাকা আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেলে হয়তো বৈশ্বিক হিসাবে এ শহরের বায়ুর মান আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। তবে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান প্রয়োগের পাশাপাশি নাগরিকরা সচেতন ও আন্তরিক হলে অপেক্ষাকৃত মানসম্মত বায়ু নগরবাসীর পক্ষে পাওয়া সম্ভব।

পরিবেশবিজ্ঞানী ও গবেষকদের মতে, বায়ুদূষণের অন্যতম উৎস ধুলোবালি। এছাড়া আছে অপরিকল্পিত-অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণ কাজ। মেয়াদোত্তীর্ণ মোটরযান ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ভারি ধাতু ধুলার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার বাতাসে প্রাপ্ত ধুলায় সর্বোচ্চ মাত্রায় সিসা, ক্যাডমিয়াম, দস্তা, ক্রোমিয়াম, নিকেল, আর্সেনিক, ম্যাঙ্গানিজ ও কপারের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে মাটিতে যে মাত্রায় ক্যাডমিয়াম থাকার কথা, ধুলায় তার চেয়ে প্রায় ২০০ গুণ বেশি পাওয়া গেছে। আর নিকেল ও সিসার মাত্রা দ্বিগুণের বেশি। খুব সহজেই এসব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বস্তুকণা ত্বকের সংস্পর্শে আসছে। শ্বাসপ্রশ্বাস, খাদ্য ও পানীয়র মাধ্যমে মানুষের শরীরেও প্রবেশ করছে। টানা ১০ দিনের ছুটি শুরুর পর থেকে গণপরিবহন, শিল্পকারখানা ও নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় উন্নতি ঘটছে বায়ুর মান।

119 COMMENTS

Comments are closed.