অমিত শাহের প্রস্তাব নাকচ, দিল্লিকে অবরুদ্ধ করার ঘোষণা কৃষকদের

3
83

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আন্দোলনরত কৃষকদের রাজধানী নয়াদিল্লির সড়ক ছেড়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। যদিও কৃষকরা সেটি উপেক্ষা করে নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকারই বার্তা দিয়েছেন।

পাঞ্জাবসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত কৃষকরা দিল্লিতে ঢোকার জাতীয় সড়ক অবরোধ করায় শনিবার (২৮ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রস্তাবটি দেন। যেখানে আগামী ৩ ডিসেম্বর সরকারের সঙ্গে চাষিদের আলোচনা নির্ধারিত রয়েছে। চাষিরা সরকারের ঠিক করে দেওয়া ময়দানে সরে গেলে তার আগেই আলোচনা হতে পারে।

রবিবার (২৯ নভেম্বর) সরকারের এই প্রস্তাব খারিজ করে কৃষক সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, তারা সরকারের মর্জিমাফিক বুরারি ময়দানে সরছেন না। কারণ সেটা আসলে খোলা জেলখানা। তার বদলে দিল্লিতে প্রবেশের পাঁচটি রাস্তাতেই অবরোধ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষকরা।

কৃষক নেতাদের দাবি, তাদের কাছে চার মাসের রসদ রয়েছে। নরেন্দ্র মোদী সরকারের তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে পিছু হটবেন না। এর মধ্যেই আজ বিজেপি তথা মোদী সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে হরিয়ানার প্রভাবশালী খাপ পঞ্চায়েতগুলি ‘সব রকম ভাবে’ কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেছে।

খাপের সদস্যরা আগামীকাল দিল্লির অভিমুখে যাত্রা করবে বলে জানিয়েছেন দাদরির বিজেপি সমর্থিত নির্দল বিধায়ক সোমবীর সাঙ্গোয়ান। মোদী সরকারকে কৃষি আইন পুনর্বিবেচনার অনুরোধও জানিয়েছে তারা।

অমিত শাহের প্রস্তাব নিয়ে কৃষক সংগঠনগুলির আলোচনার পরে পঞ্জাবের ভারত কিসান ইউনিয়নের (ক্রান্তিকারী) সভাপতি সুরজিৎ সিংহ ফুল বলেন, সরকার যে ভাবে আলোচনার জন্য শর্ত রেখেছে, তাকে আমরা কৃষক সংগঠনের অপমান বলে মনে করি। আমরা কোনোভাবেই বুরারি ময়দানে যাব না। ওটা আসলে মুক্ত জেলখানা। প্রধান পাঁচটি সড়ক অবরোধ করে দিল্লি ঘেরাও করব।

এ সময় কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকে কৃষকদের মঞ্চে আসার অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।

হরিয়ানা থেকে দিল্লিতে ঢোকার টিকরী ও সিংঘু সীমানায় কৃষকরা অবরোধ শুরু করেছেন। ফলে এক নম্বর জাতীয় সড়ক কার্যত বন্ধ। উত্তরপ্রদেশ থেকে দিল্লিতে ঢোকার গাজীপুর সীমানাতেও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এর পরে চাষিরা আরও দুই সড়ক বন্ধ করার হুঁশিয়ারি দিলেও মোদী সরকার এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড়।

উল্টে রবিবার রেডিয়োর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দাবি, দীর্ঘ আলাপ আলোচনার পরে সম্প্রতি সংসদে পাশ হওয়া কৃষি সংশোধনী আইনের ফলে কৃষকরা শুধু শিকলমুক্ত হননি, নতুন অধিকার ও নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা এসে পৌঁছেছে তাঁদের হাতে।

রবিবার সকালে মোদীর এমন বার্তার পরেই কৃষক নেতারা বুঝে যান, মোদী সরকার কোনোভাবেই আইন প্রত্যাহার করবে না। কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিংহ তোমরও জানিয়ে দেন, চাষিদের স্বার্থেই কৃষি আইন আনা হয়েছে।

তার বক্তব্য, কৃষকদের সঙ্গে আমাদের তিন বার আমলা, মন্ত্রী স্তরে আলোচনা হয়েছে। ৩ ডিসেম্বর ফের বৈঠক হবে, আগেই ঠিক ছিল। সরকার খোলা মনে কথা বলতে তৈরি। কিন্তু আলোচনার আবহ দরকার।

সরকারের যুক্তি, সেই আবহ তৈরি করতেই চাষিদের জাতীয় সড়ক ছেড়ে ময়দানে সরে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কৃষক নেতারা মনে করছেন, বুরারি ময়দানে সরে গেলে সরকারের উপর থেকে চাপও সরে যাবে।

তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা দিল্লি পুলিশ এর আগে উত্তরাখণ্ডের কৃষকদের যন্তর মন্তরে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বুরারি ময়দানে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখেছে। কেন্দ্র দেখাতে চাইছে, শুধু পাঞ্জাবের চাষিরাই কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। বাস্তবে গোটা দেশের কয়েকশো সংগঠন এই আন্দোলনে যুক্ত। আগামী ১ ডিসেম্বর গোটা দেশেই বিক্ষোভ দেখানো হবে।

এ দিকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল আজ কেন্দ্রের কাছে দাবি জানিয়েছেন, সরকার এখনই চাষিদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক।

কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দম্ভ এখন স্পষ্ট। দিল্লির চারদিকে যখন লক্ষ লক্ষ কৃষক বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, তখন প্রধানমন্ত্রী কৃষি আইন নিয়ে অনড় মনোভাব দেখাচ্ছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১২০০ কিলোমিটার দূরে হায়দরাবাদে গিয়ে জনসভা করতে পারেন। কিন্তু ১৫ কিলোমিটার দূরে দিল্লির সীমান্তে গিয়ে চাষিদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন না?

অপর দিকে চাষিদেরও দাবি, সরকার রাজনৈতিক স্তরে কথা না বলে গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে কথা বলছে।