রূপগঞ্জে টেক্সটাইল মিলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

0
80

নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এনজেড টেক্সটাইল লিমিটেড নামে একটি রপ্তানিমুখী কারখানার তুলা ও কাপড়ের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে তুলা, কাপড়সহ মেশিনারীজ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা সিলেট মহাসড়কের বলাইখাঁ এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে কারখানা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন। তবে এতে হতাহতের কোন সংবাদ পাওয়া যায়নি।

শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে হঠাৎ করে এনজেড টেক্সটাইল লিমিডেটের গ্রে কাপড়ের গোডাউনে হঠাৎ করে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মাঝে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে যেতে থাকে। এসময় গোডাউনে থাকা শ্রমিকরা আগুন আগুন চিৎকার করে বেরিয়ে পড়ে। এসময় পুরো টেক্সটাইল মিলে শ্রমিকদের মাঝে আগুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিকরা ছুটাছুটি করতে শুরু করে। পরে কারখানার ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকরা আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করে। ততক্ষণে আগুনের লেলিহান শিখা আরও বাড়তে থাকে।

তারা জানান, আগুন ৫০ থেকে ৬০ ফুট উঁচুতে উঠে যায়। গোডাউনে থাকা তুলা থেকে তৈরি করা কাপড় ও তুলায় আগুন ধরে যায়। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আশ-পাশের গ্রামের মানুষের মাঝেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ডেমরা, আড়াইহাজার ও আদমজী ফায়ার সার্ভিসের ৯ টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে শুরু করে। কারখানার শ্রমিকরাও আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করেন। প্রায় টানা সাড়ে ৩ ঘণ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ততক্ষণে গোডাউনে থাকা কাপড়, তুলা, ১৫ কোটি টাকা মূল্যের রিসাইক্লিন প্লান্টসহ পুরো গোডাউনের সেটটি পুড়ে যায়। আগুনের কারণে গোডাউনের বিল্ডিংটিও ড্যামেজ হয়ে গেছে। তবে, তুলা ফেটার মেশিন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে বেশ কয়েক জন শ্রমিক জানিয়েছেন।

এনজেড গ্রুপের দায়িত্বরত বেনু আহাম্মেদ বলেন, এনজেড গ্রুপ একটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান। এ গ্রুপে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সুনামের সাথে প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। কারখানায় আগুন নেভানোর সকল প্রকার ব্যবস্থা থাকায় এবং সময় মতো ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উপস্থিত হওয়ায় কারখানার অন্যান্য সাইটে আগুন ছড়ায়নি। আগুনে পুড়ে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ডেমরা, আদমজী ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে, সময় মতো আগুন নেভাতে না পারলে আশ-পাশে আগুন ছড়িয়ে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারতো। আগুনে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আগুনের সূত্রপাত এখনও সঠিক ভাবে বলা যাচ্ছেনা। তবে, ধারনা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।