কুষ্টিয়ার রত্ন ড. রকিবুল হাসান

14
104

একুশ শতকে বাংলা সাহিত্যের সম্ভাবনাময় ব্যক্তিত্ব ও কুষ্টিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক-গবেষক ড. রকিবুল হাসান। সৃজনধর্মী কাজে আত্মনিবেদিত অন্তরালের মানুষ তিনি। কুষ্টিয়া তথা বাংলাদেশের ইতিহাসে বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে নতুন ধারার (Turning point) সূচনা করে বরেণ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। মানুষের প্রগাঢ় ভালোবাসায় সিক্ত হতে পেরেছেন নিজ প্রতিভা ও গুণের সম্মিলনের জন্যই। তাঁর মানবিক চেতনা ও মানসচিন্তা বৃথা হয়ে যায়নি বরং তাঁর কৃতিত্বে কুষ্টিয়া হয়েছে ধন্য ও গৌরবান্বিত। ভারতবর্ষের জননন্দিত বিপ্লবী মহানায়ক বাঘা যতীনের গ্রাম কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলাধীন কয়ায় ১৯৬৮ সালের ৩১ মে তাঁর জন্ম। বাংলাদেশের অনন্য গ্রাম কয়াকে ভালোবেসে ড. রকিব লিখেছেন ‘ কয়ায় রবীন্দ্রনাথ বাঘা যতীন এবং প্রাজ্ঞজন ‘- এর মতো চল্লিশেরও অধিক গ্রন্থ। করেছেন বিস্তর গবেষণা কর্ম।

বাঘা যতীনকে নিয়ে অন্য কোনো লেখক এতটা বিস্ময়কর লেখা সৃষ্টি করতে পারেননি; যা ড. রকিব করে দেখিয়েছেন। নিজ গ্রামকে ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেন কয়ার পরিবেশে আবেগাপ্লুত হয়ে লিখলেন কবিতা” ধূলামন্দির” — তা তিনি বিশ্লেষণ করেছেন। কয়ার বিখ্যাত ঔপন্যাসিক আকবর হোসেনের গ্রন্থগুলিকে তিনি সাবলীল ও প্রাণবন্ত ভাষায় নিজ লেখায় তুলে এনেছেন। প্রকৃতির রূপ যেন তাঁর লেখায় ধরা দিয়েছে আপন মায়ের যত্নময় শাড়ীর আঁচলরূপে। ড.রকিবের মতে, ” নির্ভাবনায় কাজ করে যেতে হবে নিবিষ্টচিত্তে, এতে মানসিক পরিতৃপ্তি ঘটবে- একইসঙ্গে কর্মময় জগৎটি আরও প্রসারিত হবে।”

তাঁর পিতা মোঃ উকিল উদ্দিন শেখ ও মাতা পরীজান নেছা দু’জনেরই ভালো মানুষ হিসেবে কয়া গ্রামে খুব সুনাম রয়েছে। ড. রকিব এসএসসি পাস করেছেন কয়া ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে।পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ থেকে এইচএসসি, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে যথাক্রমে অনার্স ও মাস্টার্স করেন। অর্জন করেন পিএইচ.ডি ডিগ্রি। নর্দার্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সভাপতির চেয়ার অলংকৃত করেন। সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করছেন। বাংলা সাহিত্যে ভাইকে নিয়ে বেদনাকাব্য সৃষ্টির তিনি পথিকৃৎ। তাঁর অত্যন্ত প্রিয় সহোদর (ছোট ভাই) বুলবুলের অকালমৃত্যুতে তিনি মুষড়ে পড়েন। মর্মাহত হয়ে সৃষ্টি করেন ” বুলবুল বেদনাকাব্য ” গ্রন্থ। ড. রকিব কুষ্টিয়ার মানুষকে বিশ্বসাহিত্যাঙ্গনে পরিচিত করেছেন।

কবিতা, উপন্যাস, গল্প, নাটক সহ বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তিনি বিচরণ করেছেন। সৃষ্টি করেছেন পাঠকের জন্য প্রাণবন্ত লেখা। গবেষক হিসেবে তাঁর সুনাম ভারতেও রয়েছে। নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার ভাষা তাঁর লেখনিতে ভর করে একান্ত বাস্তবতার ধারক ও বাহক হয়ে। পত্রিকার লেখালেখিতে তাঁর মানসিক সৌন্দর্যময়তার বিকাশ ঘটে। একুশ শতকের প্রথম অর্থনৈতিক সাপ্তাহিক “অর্থবিত্ত”পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক তিনি। এটি প্রায় দুই যুগ যাবৎ প্রকাশিত হচ্ছে। মানুষ ড. রকিব রূচিশীল, ভদ্র, মার্জিত, সহনশীল ও স্নেহপরায়ণ। মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। পরিবেশ ভাবনা তাঁকে দায়িত্বশীল করেছে। এজন্য অডিও সিডির জন্য লিখেছেন “নদী বাঁচাও” নামক সাড়া জাগানো কবিতা। তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন বেশ কয়েকটি পুরস্কার ও সম্মাননা। তিনি কুষ্টিয়ার অহংকার ও গৌরব।

14 COMMENTS

Comments are closed.