গায়েবি মামলার ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেট: রাজারবাগ পীরের বিরুদ্ধে রিট

0
43

ভয়ঙ্কর একটি সিন্ডিকেট দেশব্যাপী বিভিন্ন মানুষকে গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করছিলো। সেই হয়রানির অভিযোগ এনে রাজারবাগের পীর দিল্লুর রহমান ও তার মুরিদদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দেশের বিভিন্ন স্থানের অন্তত ২০ জন ভুক্তভোগী হাইকোর্টে রিট করেন। রিট আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আবেদনে পীর ও তার মুরিদদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এ মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

এছাড়া রাজারবাগ শরীফ ও পীর দিল্লুর রহমানের সম্পত্তি এবং ব্যাংক হিসাব তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে দুদক চেয়ারম্যানের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে সারাদেশে করা মামলার বিষয়ে একটি তদন্ত চাওয়া হয়েছে। রিট আবেদনে স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইজিপিসহ ২০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

অন্যদিকে গত (১২ সেপ্টেম্বর) এই রাজারবাগ পীর দিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে করা ভিন্ন একটি রিট হাইকোর্টে উপস্থাপন হয়। জানা গেছে, রাজধানীর শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৪৯টি মামলা দায়ের করা হয়। সিআইডি’র তদন্তে তার বিরুদ্ধে এসব ভুয়া মামলার নেপথ্যে রাজারবাগের কথিত পীর দিল্লুর রহমানের নাম উঠে আসে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পক্ষ থেকে হাইকোর্টে ওই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এ বিষয়ে শুনানি ১ সপ্তাহ মুলতবি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার নেপথ্যে পীরের কারসাজির তথ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

গত রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) খুন, ধর্ষণ ও মানবপাচারের অভিযোগে দায়ের করা ৪৯ গায়েবি মামলার বাদীকে খুঁজে বের করা সংক্রান্ত বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনায় করা সিআইডি প্রতিবেদনের ওপর হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ শুনানি ১ সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার আদেশ দেন।

ওইদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এমাদুল হক বসির। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার ও অরবিন্দ কুমার রায়। এর আগে গত সপ্তাহে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেন সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রতন কৃঞ্চ নাথ।

এ বিষয়ে করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ জুন থানায় বা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা দায়ের করলে অভিযোগ দায়েরকারীর এনআইডি দেওয়া বাধ্যতামূলক বলে আদেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রুল জারি করে ৬০ দিনের মধ্যে ৪৯ মামলার ঘটনা তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, ডাকাতিসহ নানান অভিযোগে রাজধানীর শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ‘অস্তিত্বহীন’ বাদীর করা ৪৯ মামলায় প্রতিকার চেয়ে করা রিট শুনানিতে হাইকোর্টের একই ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

ওইদিন আদেশের পর আইনজীবীরা জানান, যেকোনো মামলা বা অভিযোগ করার ক্ষেত্রে বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি লাগবে বলে আদেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রুল জারি করে ৬০ দিনের ৪৯ মামলার ঘটনা তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

আইনজীবী এমাদুল হক বসির বলেন, ঢাকার শান্তিবাগ এলাকার বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৪৯টি মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় তিনি ১ হাজার ৪৬৫ দিন জেলে খেটেছেন। কিন্তু একটি মামলারও বাদীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিবেচনায় তিনি অনেক মামলায় খালাস পেয়েছেন। এর প্রতিকার চেয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন।

ওই রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজিপি, স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক, সিআইডি’র অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারসহ ৪০ জনকে বিবাদী করা হয়েছিলো।