কুবির বাস স্টাফদের ওপর অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হামলা

2
94

অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সিন্ডিকেটের হামলায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাসের চালক ও সহকারী গুরুতর আহত হয়েছেন।

বুধবার ( ২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস নগরীর টমছম ব্রিজ থেকে কান্দিরপাড় আসছিল। এ সময় কান্দিরপাড় থেকে মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের উদ্দেশ্যে যাওয়া কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি অ্যাম্বুলেন্স যানজট উপেক্ষা করে সরাসরি হাসপাতালে প্রবেশের চেষ্টা করে।

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস স্টাফ ও অ্যাম্বুলেন্স চালকের মধ্যে বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ৫ থেকে ৭ জন ব্যক্তি বাসের হেলপার আব্দুস সাত্তারকে টেনে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করে। এ সময় বাসটি রাস্তায় প্রায় ১ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকে।

এ ব্যাপারে পরিবহণ পুলের কর্মকর্তা জাহিদুল আলম বলেন, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে দেখি আমাদের বাসের সহযোগীকে অনেক মারধর করা হয়েছে। তাকে সেখান থেকে টাওয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। সে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কোতোয়ালি থানায় আমরা একটি অভিযোগ দাখিল করেছি।

হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনার পর পরই অ্যাম্বুলেন্স চালক ও সহযোগী পলাতক। অ্যাম্বুলেন্স কোতোয়ালি থানায় জব্দ করা হয়েছে। একজন পুলিশ সদস্যকে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করার জন্য বলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা কোতোয়ালি থানা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি মিটিং করেছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান এম্বুলেন্স সিন্ডিকেটটি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সিন্ডিকেট ভঙ্গের জন্য তারা পুলিশের কাছে আইনি সহায়তা চেয়েছেন। পাশাপাশি আহত স্টাফের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজীম বলেন, কথা কাটাকাটির জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস সহকারীকে অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার মেরেছে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সম্ভবত কসবা থানার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার। আর এ ঘটনাটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরেই আরও একবার কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতাল থেকে অসুস্থ বাবাকে ঢাকা নেয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সিন্ডিকেটের হাতে লাঞ্ছিত ও আহত হয়েছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। তখনো এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

2 COMMENTS

Comments are closed.