করোনা পরীক্ষার আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ

0
516

এখনো সন্ধান মেলেনি খুলনা জেনারেল হাসপাতালের টেকনোলজিস্ট প্রকাশ কুমার দাসের। তার স্ত্রী খুলনার শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট মাধবী রানী দাসও পলাতক রয়েছেন ।

গত সোমবার রাতে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হওয়ার বিষয়ে খুলনা থানায় সাধারণ ডায়েরী ও দুদকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ। এছাড়া প্রকাশ কুমার যেন পালিয়ে যেতে না পারে সে ব্যাপারে পুলিশ কমিশনারকে অনুরোধ করেছেন তিনি।

এদিকে, মামমলার সব উপাদান থাকার পরও শুধুমাত্র জিডি করায় বিষয়টি প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। তবে, নাম উল্লেখ না করার শর্তে স্বাস্থ্য বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা লোপাট হওয়া টাকা আদায়ের বিষয়টি আগে ভাবছি। তাই জিডি হয়েছে। অভিযুক্তকে পাওয়া গেলে হয়তো টাকা উদ্ধার হবে। এরপর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিভিল সার্জন নিয়াজ মাহমুদ জানান, প্রকাশকে হাসপাতালে আসার জন্য তার ঠিকানা বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রকাশের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার সন্ধান মেলেনি। তিনি খুলনা থানায় জিডি ও দুদকে অভিযোগ করেছেন। এরপরে খুলনা মেট্রোপলিটন কমিশনারের সাথে দেখা করে প্রকাশ যেন পালিয়ে যেতে না পারে সে ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ করেছেন।

খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাসান আল মামুন জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১১ টায় প্রকাশের বিরুদ্ধে খুলনা থানায় জিডি করেছেন খুলনা সিভিল সার্জন, যার নং ১৬০১। সেখানে করোনা টেস্টের ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করায় প্রকাশকে অভিযুক্ত করা হয়। মঙ্গলবার সকালেই জিডির বিষয়টি দুদককে জানানো হয়।

দুদক খুলনা উপ-পরিচালক নাজমুল হাসান জানান, খুলনা জেনারেল হাসপাতালের ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি অবহিত হয়েছি। অভিযোগটি ঢাকা অফিসকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ এলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জিডি সূত্রে জানা গেছে, পলাতক প্রকাশ কুমার দাস যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার এগারোখান ঘোড়ানাচ এলাকার মৃত সুরেন্দ্রনাথ দাসের ছেলে। খুলনায় তার ঠিকানা মুজগুন্নী আবাসিকের ১০ নং সড়কের ১২৮ নম্বর বাড়ি। তবে নির্ধারিত ঠিকানায় গিয়ে জানা গেছে, ৫ বছর আগে তিনি বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন। তার স্ত্রী মাধবী রানী দাস খুলনার শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের একজন ফার্মাসিস্ট।